সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই ট্রফির আশা শেষ হয়েছিল বাংলাদেশের। শেষ ম্যাচে লক্ষ্য ছিল অন্তত হোয়াইটওয়াশ এড়ানো। তবে সেই চ্যালেঞ্জও নিতে পারেনি স্বাগতিকরা। ব্যাট হাতে ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের পর বোলিংয়েও ছিল না কোনো প্রতিরোধ। ফলে সহজ জয় তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে অস্ট্রেলিয়া।
রোববার চট্টগ্রামের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারায় সফরকারীরা। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১০৯ রান। জবাবে ৯ ওভার হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এটি বাংলাদেশের ১১তম হোয়াইটওয়াশ।
১০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়া। শরিফুল ইসলামের করা প্রথম ওভার থেকেই আসে ১৭ রান। পরের ওভারে নাসুম আহমেদ দেন আরও ৯ রান। প্রথম পাঁচ ওভারেই ৫০ রান তুলে ফেলে সফরকারীরা। ষষ্ঠ ওভারে নাসুমের শর্ট বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে মিড উইকেটে শামীম পাটোয়ারীর হাতে ক্যাচ দেন জস ইংলিশ। ১৬ বলে ১৭ রান করে ফেরেন তিনি। পাওয়ার প্লে শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৫৪ রান।
তবে একপ্রান্তে ঝড় তুলতে থাকেন অধিনায়ক মিচেল মার্শ। সপ্তম ওভারে নাহিদ রানার প্রথম দুই বলেই ছক্কা ও চার হাঁকান তিনি। একই ওভারে কুপার কোনোলিও টানা দুই চার মারেন। ওই ওভারে ২০ রান খরচ করেন নাহিদ। এরপর মাত্র ২৫ বলে ক্যারিয়ারের দশম টি-টোয়েন্টি ফিফটি পূর্ণ করেন মার্শ।
জয় থেকে ২২ রান দূরে থাকতে দ্বিতীয় উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। শরিফুল ইসলামের বলে সুইপার কাভারে শামীমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মার্শ। ২৮ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৬০ রান করেন তিনি। পরে রিশাদ হোসেনের বলে আউট হন কুপার কোনোলি। তবে টিম ডেভিড মাঠে নেমেই ৩ বলে ২ ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ শেষ করে দেন।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের মধ্যেই ২২ রানে হারায় ৩ উইকেট।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জনসনের বলে রানআউট হন তানজিদ হাসান তামিম। একই ওভারের পঞ্চম বলে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফ। এরপর ব্যাট হাতে সংগ্রাম করতে থাকেন পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহীদ হৃদয়। শেষ পর্যন্ত ১৩ বলে মাত্র ১ রান করে আউট হন ইমন। ষষ্ঠ ওভারে হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহানের দুটি বাউন্ডারিতে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৪ রান।
অষ্টম ওভারে ৩৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। অ্যাডাম জাম্পার বলে বোল্ড হন ৮ বলে ৬ রান করা সোহান। এরপর শামীম হোসেন পাটোয়ারিও ব্যর্থ হন। উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। রিশাদ হোসেন ও হৃদয় কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। নিখিল চৌধুরীর বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে রিশাদ করেন ২০ বলে ২৬ রান।
৬২ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পরও একপ্রান্ত আগলে রাখেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। অন্যপ্রান্তে একের পর এক ব্যাটার ফিরলেও তিনি ইনিংস ধরে রাখেন। তার ব্যাটেই দলীয় ১০০ রান পূর্ণ হয়। ৪১ বলে ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নেন হৃদয়। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটি তার সপ্তম ফিফটি এবং চট্টগ্রামে চতুর্থ।
১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৭৩ রান। শেষ পাঁচ ওভারে যোগ হয় আরও ৩২ রান। শেষ ওভারে আসে মাত্র ২ রান। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১০৯ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস, যা অস্ট্রেলিয়ার জন্য কোনো কঠিন লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়নি।