সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির ‘দ’-ও বাংলাদেশে থাকবে না।’ সরকার এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং সরকারি সেবা পৌঁছে যাবে মানুষের দোরগোড়ায়।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আউশ ও রোপা আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণকে সামনে রেখে সরকার বাজেট প্রণয়ন করেছে। বাজেটে কোনো বিশেষ শ্রেণিকে অগ্রাধিকার দিয়ে অন্য কাউকে বঞ্চিত করা হয়নি। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাস্তার ভিক্ষুক থেকে শুরু করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে কর্মরত মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীসহ সকলের প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য কাউকে পিছিয়ে না রেখে সবাইকে উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে আর কোনো দপ্তরের পেছনে ঘুরতে হবে না। প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। জনগণের কল্যাণ ও সেবাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা ভোট দিয়ে আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার প্রতিদান হিসেবে আপনাদের সেবা করাই আমাদের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও দেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বন্দরের সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, হিলি স্থলবন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মুনতাসির মামুন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আর্জিনা বেগম এবং কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেজবাহুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার কৃষকের মাঝে আউশ ও রোপা আমন ধানের বীজ এবং রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের এই প্রণোদনা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করেন। এ সময় উপকারভোগীরা সরকারের এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।