নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত থাকলেও নীরবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। জেলার বিভিন্ন ইউনিটে গোপনে কমিটি গঠন এবং সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটে নীরবে কমিটি গঠনের কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে যুবলীগও বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এসব কমিটিতে পদ-পদবি পেতে সাবেক নেতাকর্মীদের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়াত আলম সানীর অনুসারী গ্রুপ এবং প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের অনুসারীরা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় আজমেরী ওসমান ও সাফায়াত আলম সানীর অনুসারীদের ঝটিকা মিছিল করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি ছোট ছোট সমাবেশ ও শোডাউনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। স্থানীয়দের মতে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তারেক আল মেহেদী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন অমান্য করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গোপন বা প্রকাশ্য, যেকোনো কর্মকাণ্ড যদি জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা সৃষ্টি করে, তাহলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।