চা শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার বিতরণ

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

সারাদেশ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠ জাতীয় চা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘চা শিল্পের উন্নতি, সবুজ

2026-06-20T17:41:59+00:00
2026-06-20T17:41:59+00:00
  শনিবার, ২০ জুন ২০২৬,
৬ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
সারাদেশ
শ্রীমঙ্গলে ষষ্ঠ জাতীয় চা দিবস উদযাপন
চা শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার বিতরণ
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৫:৪১ পিএম 
ছবি ভোরের ডাক
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠ জাতীয় চা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘চা শিল্পের উন্নতি, সবুজ হোক অর্থনীতি’।

শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। তিনি পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে চা শিল্পবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে দেশের চা শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আটটি ক্যাটাগরিতে ‘জাতীয় চা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ‘শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানা’ ক্যাটাগরিতেও বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী চা বাগান হিসেবে কমলগঞ্জের শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগান, সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী হিসেবে হবিগঞ্জের মধুপুর চা বাগান এবং শ্রেষ্ঠ চা রপ্তানিকারক হিসেবে চট্টগ্রামের দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড পুরস্কার অর্জন করে।

এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়তন চা উৎপাদনকারী হিসেবে পঞ্চগড়ের মো. মতিয়ার রহমান, শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা বাগান হিসেবে শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর চা বাগান, বৈচিত্র্যময় চা পণ্য বাজারজাতকরণে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান এবং দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্পন্ন চা মোড়কের জন্য ঢাকার কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড পুরস্কৃত হয়।

শ্রেষ্ঠ চা পাতা চয়নকারী (শ্রমিক) হিসেবে চট্টগ্রামের নেপচুন চা বাগানের জেসমিন আক্তার এবং শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানা হিসেবে পঞ্চগড়ের সুপ্রিম টি লিমিটেড পুরস্কার লাভ করে।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। চা শিল্পের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, চা বোর্ডের সব লাইসেন্স ডিজিটাল করা হয়েছে। দেশের সব চা বাগানের তথ্যভান্ডার গড়ে তুলতে ‘বাংলাদেশ টি ইন্ডাস্ট্রি’ ও ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ নামে দুটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) ইতোমধ্যে ২৩টি ক্লোন ও পাঁচটি বাইক্লোন উদ্ভাবন করেছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালে দেশে ৯৪ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ ২৫টি দেশে ১ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি করা হয়েছে। চলতি বছরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চা রপ্তানি হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, চা শিল্পে শ্রমিকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। শ্রমিকদের ছাড়া এ শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি চা বাগান মালিকদের স্বার্থও সংরক্ষণ করতে হবে।

তিনি বলেন, চা বাগানে স্যানিটেশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। চা শ্রমিকদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, টেকসই আবাসন নির্মাণ এবং শ্রমিক সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদানের মতো কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

আলোচনা সভায় চা শিল্পের বিদ্যমান সংকট ও উত্তরণের উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন সংশ্লিষ্টরা। বাগান মালিকরা সংকট নিরসনে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে রপ্তানি বাড়াতে চায়ের গুণগত মান উন্নয়ন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিজিবি শ্রীমঙ্গল সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল বি এম তৌহিদ হাসান, বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি কামরান টি রহমান, টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শাহ মঈনুদ্দিন হাসান, টি প্ল্যান্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টিপিটিএবি) সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ বটলিফ টি ফ্যাক্টরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিয়াজ আলী চিশতী।

অনুষ্ঠানে চা শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন, চা শ্রমিক প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১৭২টি নিবন্ধিত চা বাগান রয়েছে। এর মধ্যে ৯২টি চা বাগান মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: