চলতি বছরের অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর কথা রয়েছে। তবে আগের মতো এ নির্বাচন দলীয়ভাবে হচ্ছে না। ফলে এ নির্বাচনে দলীয় প্রতিকও থাকছে না। তবে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল নিজেদের মতো করে দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছে।
বিশেষ করে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন জোটগতভাবে করলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত। দলটি ইতিমধ্যে অধিকাংশ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদপ্রার্থীও ঠিক করেছে। এখন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা কেন্দ্রীক প্রার্থী ঠিক করতে কাজ করছে।
তবে একটি সূত্রে জানিয়েছে, ১১ দলীয় ঐক্যের নীতিনির্ধারকদের পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয় সরকার নির্বাচন জোটগতভাবে করারও সম্ভাবনা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকে ধাপে ধাপে হবে স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন। প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে। পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন করার চিন্তা রয়েছে সরকারের। ফলে রাজনৈতিকদলগুলো এ নির্বাচনে অংশ নিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
এ বিষয়ে জামায়াতের কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা এককভাবেই স্থানীয় নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। কারণ অতীতে বিএনপির সাথে চারদলীয় জোটে থেকেও আলাদাভাবে নির্বাচন করে তুলনামূলক বেশি সফলতা পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার একক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
জামায়াত নেতারা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে এবং জামায়াতের জনসমর্থনও আগের চেয়ে বেড়েছে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে এককভাবে নির্বাচন করতেই তাদের বেশি আগ্রহ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক আসন পেয়ে বিরোধী দলে থেকেও দেশজুড়ে জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত অনেক শক্তিশালী হয়েছে। কারণ এ নির্বাচনে ত্রিশ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে দলটি। এরইমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে সর্বত্র। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি।
তারা সভা সমাবেশের পাশাপশি ঢাকাসহ সারাদেশে প্রার্থীদের ছবি দিয়ে প্রচার-প্রচারণাও করে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করে তাদের শক্তি জানান দিতে চায় জামায়াত। তবে পরিস্থিতির আলোকে জোটবদ্ধ নির্বাচন করা লাগলে তারও প্রস্তুতি রয়েছে। দুই ধরনের প্রস্তুতি নিয়েই ভোটারদের মন জয় করতে কাজ করছে দলটির নেতাকর্মীরা।
বিশেষ করে ঢাকাসহ প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রতিদিনই সভাসমাবেশ করে নিজেদের সমর্থন বাড়াচ্ছে দলটি। এক্ষেত্রে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণে মানুষেরও ব্যাপক সারা মিলছে বলে দলটির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নেয় জামায়াত। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবেই লড়তে চায় দলটি।
এক্ষেত্রে সিটি, পৌরসভা ও উপজেলা তিন পর্যায়ের প্রার্থী চূড়ান্তে কাজ করেছে দলটি। এরইমধ্যে আটটি সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য প্রার্থী প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েছে। একসময় দলটি শুধু রুকনদের দলীয় মনোনয়ন দিলেও সেই নীতিতে অনেকটা পরিবর্তন এনেছে।
যার প্রমাণ মিলেছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কর্মী-সমর্থক এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও মনোনয়ন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই নীতি অনুসরণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে ২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার কথা ভাবছে জামায়াত।
এদিকে, কয়েকটি সিটিতে ইতিমধ্যে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে জামায়াত। এরমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রয়েছেন। দক্ষিণে আলোচনায় রয়েছেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী করা হচ্ছে দলের মহানগর শাখার আমির আবদুল জব্বারকে। গাজীপুর সিটিতে মেয়র পদে দলটির প্রার্থী হচ্ছেন হাফিজুর রহমান।
তিনি তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি। চট্টগ্রাম সিটিতে প্রার্থী করা হচ্ছে জামায়াতের চট্টগ্রাম নগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালীকে। রংপুরে সিটিতে প্রার্থী হচ্ছেন দলের মহানগর আমির এ টি এম আজম খান।
এছাড়া আরো কিছু সিটিতে প্রার্থী ঠিক করে রেখেছে দলটি। এখন ইউনিয়ন, পৌসসভা ও উপজেলা কেন্দ্রীয় প্রার্থী বাচাইয়ের কাজ চলছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দলীয় প্রার্থী দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাইয়ে অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে এসব যোগ্যতায় স্থানীয় পর্যায়ে ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের সাথে সমঝোতা হতে পারে। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। জোটের প্রতিটি দল আলাদা আলাদা তাদের নিজস্ব প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার কথাও রয়েছে।
তিনি বলেন, এলাকায় কারও অপরাধ-অপকর্মের ব্যাপারে খারাপ পরিচিতি রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তিকে আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী করবো না।