বগুড়ার শিবগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দায়ের হওয়া মামলায় ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ জুন) তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে গাজীপুরের গাছা এলাকার বোর্ডবাজারে অভিযান চালিয়ে রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর উপজেলার বসুরা এলাকার বাসিন্দা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
গত ১৫ জুন বগুড়া প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও দি নিউনেশন পত্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিনিধি তানভীর আলম রিমন বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর সম্পাদক-প্রকাশক, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক, প্রতিবেদক ও জেলা প্রতিনিধিসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়।
আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য বগুড়া সদর থানাকে নির্দেশ দেন। পরে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারা এবং দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় বগুড়া ডিবির এসআই রহমাতুল্লাহ মানিকের ওপর।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ জুন বগুড়া প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। এছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফরকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
বগুড়া ডিবির ওসি ইকবাল বাহার জানান, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সাংবাদিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদ প্রকাশের অধিকার এবং মানহানির অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মামলার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।