কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসে ৩০ জনের মৃত্যু, ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে মে মাসের শুরু থেকে শিশুসহ অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শিবির

2026-06-20T09:34:31+00:00
2026-06-20T11:50:01+00:00
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
 
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসে ৩০ জনের মৃত্যু, ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৯:৩৪ এএম  আপডেট: ২০.০৬.২০২৬ ১১:৫০ এএম
সংগৃহীত ছবি
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে মে মাসের শুরু থেকে শিশুসহ অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শিবির কর্তৃপক্ষের মতে, এই মৃত্যুহার নজিরবিহীন। আক্রান্তদের উপসর্গ দেখে তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে যে সেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী রোগ ইবোলা। খবর বার্তাসংস্থা রয়টার্সের। 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল বুনিয়ার কিগোঞ্জে শিবিরে মৃত বা জীবিত কারও নমুনা পরীক্ষা করতে রোগী ও তাদের স্বজনরা রাজি হননি। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শিবিরের মুখপাত্র, একজন শোকাহত বাবা, কয়েকজন ত্রাণকর্মী এবং স্থানীয় নাগরিক সমাজের নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের প্রায় সবারই মাথাব্যথা, তীব্র জ্বর ও বমির মতো উপসর্গ ছিল, যা ইবোলার সাধারণ লক্ষণ।
 
১৫ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস এই কিগোঞ্জে শিবিরে। সেখানে এই মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে যে পূর্ব কঙ্গোর ৫০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে অজান্তেই ইবোলা ছড়িয়ে পড়তে পারে। সীমিত স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি রোগ শনাক্তে অনীহা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

শিবিরের সভাপতি ডিজ'জো এতিয়েন জানান, আগে কখনো এভাবে মানুষ মারা যায়নি। শুধু চলতি সপ্তাহেই ১০ জনকে দাফন করা হয়েছে। অথচ আগে প্রতি মাসে গড়ে এক থেকে তিনজনের বেশি মানুষ মারা যেতো না। ক্যাথলিক ত্রাণ সংস্থা ক্যারিটাসের পরিচালক জাস্টিন জানামুজি বলেন, বুধবার(১৭ জুন) তার দল শিবিরে গিয়ে চাদরে মোড়ানো কয়েকটি মরদেহ দেখেছে, যার মধ্যে গর্ভবতী নারী ও শিশুও ছিল। 

রয়টার্স যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিশেষ সুরক্ষা পোশাক পরা স্বাস্থ্যকর্মীরা মরদেহ জীবাণুমুক্ত করছেন এবং ছোট ছোট কফিন প্রস্তুত করছেন। জানামুজি বলেন, আমাদের দল মরদেহ পরীক্ষা করার জন্য চিকিৎসকদের অনুমতি দিতে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু তারা পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ডিআর কঙ্গো সরকার গত ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুর ঘটনা তারও আগে শুরু হয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলেরার উপসর্গও অনেক ক্ষেত্রে ইবোলার মতো হতে পারে। যদিও কলেরা সাধারণত ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ইবোলার মতো ছড়ায় না।

শিবিরের বাসিন্দা কাতো লোনু তার দুই সন্তানকে হারিয়েছেন, যার একজনের বয়স ছিল মাত্র ছয় মাস। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে বেঁচে থাকা কোনো মানুষের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। চারদিকে তাকালেই দেখা যায়, একের পর এক মানুষ মারা যাচ্ছে।

ত্রাণ সংস্থাগুলোর কর্মীরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি দেখিয়ে দিচ্ছে যে পানি, স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন খাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় মানুষ এখন আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে। 

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে টয়লেট ও হাত ধোয়ার স্টেশন নির্মাণে অর্থায়ন আগের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি কমে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারে নেমে এসেছে। চলতি বছরের ৮ কোটি ডলারের তহবিল আহ্বানের বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র ২১ শতাংশ অর্থ পাওয়া গেছে।


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: