দুই মাসেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো ইরানের তিনটি তেলবাহী জাহাজ মার্কিন নৌ অবরোধ অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি যাচাই করে দেখেছে, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাঙ্কার কোম্পানির জাহাজগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত জাহাজ তেলভর্তি অবস্থায় অবরোধ এলাকা পেরিয়ে আরব সাগরে প্রবেশ করেছে।
জাহাজগুলোর অবস্থান শনাক্ত করার ব্যবস্থা চালু থাকলেও, সেগুলো কোথায় যাচ্ছে সে তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী ‘স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত’ এবং ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ হবে। তবে একই সময়ে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রণালীটি অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারগুলোর কাছ থেকে নির্দিষ্ট কিছু সেবার বিনিময়ে ‘ফি’ আদায় করা হতে পারে।
এই ‘সেবা ফি’ বাণিজ্যিক নৌপরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় ও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে নেয়া হতো না।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু তেহরান যদি এই পদক্ষেপ (ফি নেয়া) বাস্তবায়ন করে, তবে তা আন্তর্জাতিক নৌপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নতুন ও বিতর্কিত দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও অন্যান্য সামুদ্রিক সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের স্বার্থ রক্ষায় আমরা কিছু নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছি।’
বাঘাই আরও বলেন, আমরা ট্রানজিট টোল আরোপ করতে চাই না। তবে যেসব সেবা প্রদান করা হবে, তার বিনিময়ে ফি নেয়া হবে।
তবে কী ধরনের সেবা দেয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি বলেন, এ প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আরও আলোচনা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর নিজেদের প্রভাবকে অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে ইরানের নতুন এই উদ্যোগ।
সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি