পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও কর্তনের ক্ষেত্রে কঠোর আইন করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল (এমপি)। তিনি বলেন, বাংলাদেশ গাছ কর্তন নীতিমালা অনুযায়ী, রাজধানীসহ সারাদেশে সামাজিক বনায়ন বা সরকারি যেকোনো গাছ কাটতে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাছ কাটার ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়মে অনুমতি না লাগলেও, সরকারি নির্দেশনা ও আইনি কাঠামোর সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। কারণ একটি গাছ পরিবেশে সুরক্ষায় যেই ভূমিকা রাখতে পারে তা জনগণের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
বুধবার (১৭ জুন) ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সমাজকল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্ত্যেব্য তিনি এসব কথা বলেন মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ খানের পরিচালনায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি ও মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সালাম, মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোবারক হোসেন মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, সহকারী অফিসে সেক্রেটারি মজিবুর রহমান প্রমুখ।
পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার প্রতিবছর পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের জন্য যেই বাজেট বরাদ্দ করে তা পুরোপুরি শুভঙ্করের ফাঁকি উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, কারণ বিশাল অঙ্কের বাজেট হলেও সেই বাজেট কোথায় ব্যয় হয় জনগণ তা জানে না, দেখে না। লুটপাট আর ভাগ বাটোয়ারার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা সেই বাজেটের বরাদ্দ নিজেদের পকেটে নিয়ে নেয়। যার ফলে প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজধানী ঢাকা শহর সহ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। এই বিশাল ক্ষতির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সরকারকে টেকসই ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে তিনি আহ্বান জানান।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড প্রসঙ্গে এই সংসদ সদস্য বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে দুর্নীতির পথ তৈরির যেই প্রচেষ্টা সেটি বন্ধ করতে হবে। এটি বন্ধ করতে না পারলে উন্নয়নের সুফল জনগণের দৌড়গৌড়ে পোঁছানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘শকে আবারো দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান করার প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের উপস্থাপিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি কারণ সরকার দুর্নীতি দমনে আগ্রহী নয়। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বলেন- দুর্নীতি সব জায়গায় হয় ঘুরেফিরে রাজনীতিবিদদের ওপর দায় আসে! তখন বুঝতে বাকি থাকে না সরকার দুর্নীতি দমন না করে দুর্নীতির দায় এড়িয়ে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, যেখানে স্বাস্থ্যখাত চরম ঝুঁকিতে রয়েছে সেখানে সরকার কোনো হাসপাতাল বন্ধ করে দিলে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা কতটা হুমকির মুখে পড়বে সেটি সরকার ভেবে দেখছে না।