ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় বাড়ির জায়গা ও সীমানা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এক গৃহবধূ।
জিডির আবেদন সূত্রে জানা যায়, বিজয়নগর উপজেলার ১নং বুধন্তী ইউনিয়নের কেনা (লম্বাহাটী) গ্রামের বাসিন্দা সুহেনা আক্তারের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে তার শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের কয়েকজনের বাড়ির জায়গা ও সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা বিভিন্ন সময় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল। এমনকি তার স্বামী বিদেশ থেকে দেশে ফিরলে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৪ জুন বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে খোকন মিয়া, জায়েদুল ইসলাম, আফজল মিয়া, সজিব মিয়া, জাবেদ মিয়াসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা বাড়ির লোকজনকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
প্রতিবাদ করতে গেলে সুহেনা আক্তারের স্বামীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে সুহেনা আক্তারের শরীরের কাপড় টানাটানি করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের খুন করে লাশ গুম এবং বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরিবারের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত ব্যক্তিকে উপস্থিত সাক্ষীদের সহযোগিতায় হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত চিকিৎসাপত্র জিডির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জিডিতে উল্লেখিত সাক্ষীরা হলেন— মাফুজা আক্তার, শাকিল, নীল কণু, নসু মিয়া ও মো. বাছির মিয়া। তারা সবাই কেনা (লম্বাহাটী) গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে সুহেনা আক্তার বিজয়নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডিতে তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী ও খারাপ প্রকৃতির হওয়ায় যেকোনো সময় পুনরায় ক্ষতি করতে পারে।
এ বিষয়ে বিজয়নগর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সাধারণ ডায়েরির আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।