মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তথ্য জানালেও চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আগামী শুক্রবারের আগেই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, চুক্তির প্রাথমিক খসড়ায় ইতোমধ্যে স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-এর সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, চুক্তির সব প্রাথমিক ধাপে স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।
ফক্স নিউজ ও সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স জানান, সমঝোতা স্মারকটি সংক্ষিপ্ত হলেও এটি ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে এবং সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেবে। পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে একটি যাচাইযোগ্য অঙ্গীকারও থাকবে।
এনবিসি নিউজকে ভ্যান্স আরও বলেন, চুক্তির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরমাণু পরিদর্শকদের ইরানে পুনরায় কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংসে সহায়তা করবে।
পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে নতুন দফার আলোচনা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চুক্তিতে ট্রাম্প, ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করেছেন। চুক্তির আওতায় বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক জোট গঠনের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব সক্ষমতায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারবে, তবে মিত্র দেশগুলোর উপস্থিতি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো চুক্তিই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেন, লেবাননে ভবিষ্যতে যেকোনো ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে এই অন্তর্বর্তী চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে। তিনি দাবি করেন, সমঝোতার বাস্তব পক্ষগুলো হলো একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং অন্যদিকে ইরান ও হিজবুল্লাহ।
চুক্তির আওতায় চলতি সপ্তাহেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কারিগরি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
এদিকে সোমবার রাতে নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, প্রয়োজন হলে ইসরায়েলি বাহিনী লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় অবস্থান অব্যাহত রাখবে। এর কিছুক্ষণ পর দক্ষিণ লেবাননে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারজন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ করে দেশটির গণমাধ্যম। শান্তি উদ্যোগের ঘোষণা পরবর্তী এটিই প্রথম বড় ধরনের হামলা। জবাবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।