চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে গভীর রাতে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে উভয় সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিয়েছেন। এ সময় সংঘর্ষের আশঙ্কায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
রবিবার (১৪ জুন) রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট ও আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক পক্ষের কর্মসূচির পরপরই অন্য পক্ষ পাল্টা স্লোগান নিয়ে মাঠে নামলে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
রাত ১০টার দিকে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুম ও অপহরণের নাটক সাজানোর’ অভিযোগ তুলে জিরো পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। মিছিলটি জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে শাহ আমানত হল ও সোহরাওয়ার্দী মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরো পয়েন্টে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবিরকে ইঙ্গিত করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ১৯৭১ সালে এদের যে ভূমিকা ছিল, ২০২৬ সালেও তারা সেই একই ভূমিকা পালন করছে। আমরা ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান চাই, কিন্তু কোনো অপশক্তি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে মেনে নেব না। দিন এখন বদলে গেছে; এটি জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশ। যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব।
ছাত্রদলের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর রাত ১০টা ১৫ মিনিটে একই স্থান থেকে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। বিএনপির এক সংসদ সদস্যের জাতীয় সংসদে হিজাব নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয় বলে জানা গেছে। শিবিরের মিছিলটিও শাহ আমানত হল ও সোহরাওয়ার্দী মোড় প্রদক্ষিণ করে জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়।
মিছিল চলাকালে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রতিবাদ এবং হিজাবের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, “জাতীয় সংসদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দাঁড়িয়ে একজন সংসদ সদস্য হিজাব নিয়ে যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। বিএনপির পক্ষ থেকে যদি স্পষ্ট করা হতো যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এমন বক্তব্য দিয়েছেন, তাহলে আমাদের রাজপথে নামতে হতো না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু নীতি ও আইনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয়কে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের রক্ষার উদ্দেশ্যেই এমন অবস্থান গ্রহণ করা হচ্ছে।
গভীর রাতে ছাত্ররাজনীতির প্রধান দুটি পক্ষের পাল্টাপাল্টি মিছিল ও স্লোগানকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।