গত দুই বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই হেরে টুর্নামেন্ট থেকে দ্রুত বিদায় নেওয়ার দুঃস্বপ্ন এখনো তাড়া করে বেড়ায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পর ২০১৮ ও ২০২২—দুই আসরেই গ্রুপ পর্বে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের, যেখানে প্রথম ম্যাচের হারই বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর চেয়ে বড় বৈপরীত্যের ম্যাচ আর হতেই পারে না! একদিকে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফুটবল পরাশক্তি জার্মানি, আর অন্যদিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের কুরাসাও। আয়তন এবং জনসংখ্যা, উভয় দিক থেকেই বিশ্বকাপের মূল পর্বে পা রাখা ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট এই দেশটিকে নিয়ে যখন ই-গ্রুপের উদ্বোধনী ম্যাচে একচেটিয়া একপেশে লড়াইয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে সবাই, তখনই ফুটবলবিশ্বে এক পশলা রোমাঞ্চের হাওয়া বইয়ে দিয়েছেন কুরাসাওয়ের বর্ষীয়ান ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকাট। ম্যাচটি শুরু হবে রবিবার (১৪ জুন) রাত বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়।
৭৮ বছর বয়সী এই মাস্টারমাইন্ডের অধীনে কুরাসাও ড্রেসিংরুমে এখন শান্ত কিন্তু ইস্পাতকঠিন আত্মবিশ্বাসের সুর। ম্যাচ শুরুর আগে জার্মানদের প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে অ্যাডভোকাট বলেন, জার্মানির বিরুদ্ধে আমাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হচ্ছে, এটা আমাদের জন্য দারুণ এক ব্যাপার। প্রথম ম্যাচেই আমরা বুঝে যাব আমরা ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। আমরা পরের রাউন্ডে যেতে চাই এবং ফুটবলে অঘটন সবসময়ই সম্ভব। আমাদের কোনো সুযোগ নেই, এমনটা ভাবলে ভুল হবে। দলের সবার মধ্যে জেদ আছে, আর জেদ থাকলে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব।
রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ১–০ গোলে হারে জার্মানি। এরপর কাতার বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে ২–১ ব্যবধানে পরাজয় তাদের গ্রুপ পর্বেই ছিটকে দেয়। সেই ‘প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতার ছায়া’ এবারও আলোচনায়।
তবে এবার পরিস্থিতি তুলনামূলক সহজ বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ নবাগত কুরাসাও জাতীয় ফুটবল দল। কাগজে-কলমে শক্তির ব্যবধান স্পষ্ট হলেও বিশ্বকাপে আপসেটের ইতিহাস ভুলে যেতে নারাজ জার্মান শিবির।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ম্যাচে জার্মানির রেকর্ড বেশ শক্তিশালী। ১৯৫৪ সালে তুরস্ককে ৪–১, ১৯৫৮ সালে আর্জেন্টিনাকে ৩–১, ১৯৬৬ সালে সুইজারল্যান্ডকে ৫–০ এবং ১৯৭০ সালে মরক্কোকে ২–১ গোলে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছিল তারা।
তবে ব্যতিক্রমও আছে। ১৯৮২ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার কাছে ২–১ গোলে হেরে বড় অঘটনের শিকার হয় পশ্চিম জার্মানি, যা এখনো বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় আপসেট হিসেবে ধরা হয়।
এরপরের বছরগুলোতে আবারও দাপট ফিরে পায় জার্মানি—১৯৯০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত অধিকাংশ আসরেই প্রথম ম্যাচে বড় জয় তুলে নেয় তারা। ২০০২ সালে সৌদি আরবকে ৮–০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ছিল তাদের শক্তির সবচেয়ে বড় ঘোষণা।
সবশেষে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে ৪–০ গোলের জয় দিয়ে শুরু করে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতে জার্মানি।
বর্তমানে জার্মানি জাতীয় ফুটবল দলের সামনে লক্ষ্য পরিষ্কার—কেবল জয় নয়, আত্মবিশ্বাসী শুরু নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ‘গ্রুপ অব ডেথ’ এড়াতে হলে প্রথম ম্যাচে কোনো ভুল করার সুযোগও নেই।
এবারের গ্রুপ ‘ই’-তে জার্মানির অন্য দুই প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট জাতীয় ফুটবল দল এবং ইকুয়েডর জাতীয় ফুটবল দল। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই গ্রুপে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই—গত দুই আসরের ব্যর্থতার ছায়া কাটিয়ে এবার কি আবারও বিশ্বমঞ্চে দাপট দেখাতে পারবে জার্মানি? প্রথম ম্যাচের ফলই দিতে পারে সেই উত্তর।
গত দুই বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি জাতীয় ফুটবল দলকে। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে মেক্সিকোর কাছে ১–০ এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জাপানের কাছে ২–১ গোলে হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছিল তারা। সেই ‘প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতার ছায়া’ এবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
এবারের বিশ্বকাপে তাদের গ্রুপে রয়েছে নবাগত ও তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত কুরাকাও জাতীয় ফুটবল দল। কাগজে-কলমে শক্তির ব্যবধান স্পষ্ট হলেও বিশ্বকাপে অঘটনের ইতিহাস থাকায় আত্মতুষ্টিতে নেই জার্মান শিবির।
ম্যাচের আগে কুরাসাওয়ের অভিজ্ঞ কোচ ডিক অ্যাডভোকাট বলেন, “আমাদের লক্ষ্য পরের রাউন্ডে যাওয়া। ফুটবলে সবসময় অঘটন ঘটতে পারে। আমাদের কোনো সুযোগ নেই—এমনটা ভাবা ভুল হবে।” তাঁর এমন মন্তব্যে ম্যাচ ঘিরে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ম্যাচে জার্মানির রেকর্ড বেশ শক্তিশালী। ১৯৫৪ সালে তুরস্ককে ৪–১, ১৯৫৮ সালে আর্জেন্টিনাকে ৩–১, ১৯৬৬ সালে সুইজারল্যান্ডকে ৫–০ এবং ১৯৭০ সালে মরক্কোকে ২–১ গোলে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছিল তারা। তবে ব্যতিক্রমও আছে—১৯৮২ সালে আলজেরিয়ার কাছে ২–১ গোলে হেরে বড় অঘটনের শিকার হয়েছিল পশ্চিম জার্মানি।
পরবর্তীতে ১৯৯০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি আসরেই প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী সূচনা করে জার্মানি। ২০০২ সালে সৌদি আরবকে ৮–০ গোলে হারানো ছিল তাদের সবচেয়ে বড় ঘোষণা। আর ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে ৪–০ গোলের জয় দিয়ে শুরু করে শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জেতে তারা।
এবারের গ্রুপে জার্মানির অন্য দুই প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট জাতীয় ফুটবল দল এবং ইকুয়েডর জাতীয় ফুটবল দল। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই গ্রুপে প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠবে গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই—গত দুই আসরের ব্যর্থতার ছায়া কাটিয়ে এবার কি আবারও বিশ্বমঞ্চে দাপট দেখাতে পারবে জার্মানি? নাকি প্রথম ম্যাচের চাপই আবারও বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে? উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।