শাকিরার টারকুইজ পোশাকটি যেভাবে বানানো হয়েছে

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন

ফুটবল বিশ্বকাপ আর শাকিরা-এই জুটি যেন বরাবরই দর্শকদের জন্য আলাদা এক আকর্ষণের নাম। ২০১০ সালের ‘ওয়াকা ওয়াকা’ এখনো বিশ্বকাপের সবচেয়ে

2026-06-14T12:26:57+00:00
2026-06-14T12:26:57+00:00
  সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬,
১ আষাঢ় ১৪৩৩
 
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
বিনোদন
শাকিরার টারকুইজ পোশাকটি যেভাবে বানানো হয়েছে
বিনোদন ডেস্ক
রোববার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:২৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ফুটবল বিশ্বকাপ আর শাকিরা-এই জুটি যেন বরাবরই দর্শকদের জন্য আলাদা এক আকর্ষণের নাম। ২০১০ সালের ‘ওয়াকা ওয়াকা’ এখনো বিশ্বকাপের সবচেয়ে জনপ্রিয় গানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও গানটির আবেদন কমেনি। 

এবারও বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘ডাই ডাই’ দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। গানটির পাশাপাশি তার পোশাক ও স্টাইলও নজর কেড়েছে ভক্তদের।

বিশ্বকাপ মঞ্চে শাকিরার উপস্থিতি নতুন নয়। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপের সমাপনী আয়োজনে তিনি গেয়েছিলেন ‘হিপস ডোন্ট লাই’। এরপর ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ‘লা লা লা’ গান পরিবেশন করে আবারও দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন। প্রতিবারের মতো এবারও তার পোশাক, নৃত্য আর সোনালি ঢেউখেলানো চুল ভক্তদের মুগ্ধ করেছে।

‘ডাই ডাই’ গানে শাকিরাকে দেখা গেছে পাঁচটি ভিন্ন পোশাকে। প্রতিটি নকশাতেই ছিল ফ্যাশন, কারুশিল্প ও টেকসই ভাবনার সমন্বয়। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে টারকুইজ রঙের বিশেষ পোশাকটি নিয়ে। এটি ডিজাইন করেছেন গানার ডেথেরেজ এবং তার মায়ামিভিত্তিক টিম।

এই পুরো স্টাইলিং প্রজেক্টের সৃজনশীল তত্ত্বাবধানে ছিলেন শাকিরার দীর্ঘদিনের স্টাইলিস্ট নিকোলাস ব্রু। তার পরিকল্পনায় পোশাকে একসঙ্গে ফুটে উঠেছে গ্ল্যামার, নাটকীয় সিলুয়েট ও সূক্ষ্ম কারুকাজ।

মজার বিষয় হলো, বহুল আলোচিত এই পোশাকটি তৈরিতে মাসের পর মাস সময় লাগেনি। মাত্র চার দিনের টানা পরিশ্রমেই এটি তৈরি করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটিই ছিল অনেকটা রুদ্ধশ্বাস দৌড়ের মতো।

কলম্বিয়ার মেডেলিনে। তখন ডিজাইনার গানার ডেথেরেজ, ক্রিস্টোফার মিনাফো ও কেটি ম্যামি সেখানে ছুটি কাটাচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই তারা শাকিরার নতুন মিউজিক প্রজেক্টে কাজ করার প্রস্তাব পান। সময় নষ্ট না করে দ্রুত মায়ামির উদ্দেশে রওনা দেন তারা। মায়ামিতে পৌঁছে শুরু হয় সময়ের সঙ্গে লড়াই। শুধু শাকিরার পোশাকই নয়, তার সঙ্গে থাকা নৃত্যশিল্পীদের জন্য আরও ছয়টি পোশাকও তৈরি করতে হয়েছিল ড্রেস রিহার্সালের আগেই। কাজের চাপের পাশাপাশি জায়গার সংকটও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

একটি হোটেল কক্ষকেই তখন অস্থায়ী ওয়ার্কশপে রূপ দেওয়া হয়। সেখানেই চলতে থাকে ডিজাইন, কাটিং, সেলাই ও শেষ মুহূর্তের পরিবর্তনের কাজ। প্রয়োজনীয় উপকরণ শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে জরুরি ভিত্তিতে সংগ্রহ করা হয়। পুরো টিম প্রায় নির্ঘুম অবস্থায় কাজ শেষ করে।

নিকোলাস ব্রুর নির্দেশনায় হাতে তৈরি করা হয় পোশাকটির ক্রোশের কারুকাজ করা বেল্ট। চামড়ার ওপর বসানো হয় টারকুইজ রঙের পুঁতি, সঙ্গে ছিল সূক্ষ্ম বুননের কাজ। পুরো নির্মাণ প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেন গানার ডেথেরেজ।

পরে এক সাক্ষাৎকারে ডেথেরেজ জানান, স্কুলজীবনে তাঁতের কাজ ও বুনন নিয়ে তাকে প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়তে হতো। অথচ সেই দক্ষতাই পরবর্তীতে তাকে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পপ তারকা শাকিরার জন্য পোশাক তৈরির সুযোগ এনে দেয়। তার মতে, যে শখ একসময় তাকে সমস্যায় ফেলত, সেটিই পরে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় শক্তি হয়ে ওঠে।

পোশাকটির নকশাও ছিল বেশ জটিল। জেড সবুজ ও নীলের বিভিন্ন শেড মিলিয়ে তৈরি এই পোশাকে সূক্ষ্ম অ্যাপলিক ও পুঁতির কাজ বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে। নাচের সময় যেন পোশাকটি স্বাভাবিকভাবে নড়ে এবং ক্যামেরায় আকর্ষণীয় দেখায়, সে বিষয়েও আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্কার্টের ফ্রিঞ্জ নাচের মুদ্রার সঙ্গে সুন্দরভাবে মানিয়ে যায়। এমনকি পোশাকের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শাকিরার পেটেও পুঁতি দিয়ে বিশেষ নকশা করা হয়েছিল। তথ্যসূত্র: ল্যাটিনেশন


Loading...
Loading...

বিনোদন- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: