বরাদ্দ বেড়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে

অনলাইন ডেস্ক

বাণিজ্য

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য মোট ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের

2026-06-11T18:56:13+00:00
2026-06-11T18:56:28+00:00
  শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬,
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
বাণিজ্য
বরাদ্দ বেড়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে
অনলাইন ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম  আপডেট: ১১.০৬.২০২৬ ৬:৫৬ পিএম
বরাদ্দ বেড়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে
২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য মোট ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা বেশি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতি, সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যাপাসিটি চার্জের নামে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগও রয়েছে। আগের সরকারের সময়ে করা কিছু মেগা প্রকল্পের একতরফা ও বিতর্কিত শর্তের কারণে বিদ্যুৎ আমদানি ও ক্রয়ের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ এখন বহন করতে হচ্ছে। বর্তমানে এ খাতে বার্ষিক ভর্তুকি ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, দেশের স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা (আমদানি ও অন-গ্রিড নবায়নযোগ্যসহ) ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট হলেও এখনো নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

# বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা
# দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কঠোর মনিটরিং
# অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, প্রয়োজন হলে আধুনিকায়ন এবং লো-কস্ট জেনারেশন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন
# ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনার মাধ্যমে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
# সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন এবং স্মার্ট গ্রিড উন্নয়নের মাধ্যমে সিস্টেম লস কমানো
# ২০৩০ সালের মধ্যে মোট চাহিদার ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন
# ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত এবং সঞ্চালন লাইন ২৫ হাজার সার্কিট কিলোমিটারে সম্প্রসারণ
# রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২,৪০০ মেগাওয়াট প্রকল্পের প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে ১,২০০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল ও এলএনজির স্পট মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে সরকার বিপুল ভর্তুকি দিচ্ছে এবং জ্বালানি তেলের দাম আংশিক সমন্বয় করা হয়েছে। তবে গ্যাসের সরবরাহ ও দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি খাতে ব্যয় সাশ্রয়ী ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। কৌশলগত জ্বালানি মজুদ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় ও সমুদ্র অঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আগামী তিন বছরে বাপেক্সের মাধ্যমে ২৭০ কিলোমিটার ভূতাত্ত্বিক জরিপ, ৭০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক জরিপ এবং ৭০০ বর্গ কিলোমিটার ৩ডি সিসমিক জরিপ সম্পন্ন করা হবে।

মধ্যমেয়াদে বাপেক্সের নিজস্ব রিগ দিয়ে ৬৯টি কূপ খনন এবং ৩১টি কূপের ওয়ার্কওভার করা হবে। নতুন অনুসন্ধান রিগ ক্রয়, অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন “বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড” ঘোষণা এবং মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট সংশোধনের কথাও জানান তিনি।

এ ছাড়া জ্বালানি আমদানিতে একক উৎস নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখীকরণ নীতি গ্রহণ করা হবে। মহেশখালীতে বিদ্যমান দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের পাশাপাশি নতুন টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে।

মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ড-বেজড এলএনজি টার্মিনালের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। পাশাপাশি জ্বালানি তেল পরিবহনের ৬০১.৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন ব্যবহার বৃদ্ধি, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং চালু এবং চট্টগ্রাম বা উপকূলীয় শিল্পাঞ্চলে ৫০ লাখ টন সক্ষমতার নতুন ক্রুড অয়েল রিফাইনারি নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।


Loading...
Loading...

বাণিজ্য- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: