দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে নতুন শিক্ষাঋণ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিদেশে পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করতে না পারায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়েন। নতুন এই ঋণ কর্মসূচি তাদের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় কোনো বিদেশি ভাষায় দক্ষ শিক্ষার্থীরা ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। এ লক্ষ্যে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শিক্ষার বিশেষ কোর্স চালুর পরিকল্পনার কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের সুদের হার তুলনামূলক কম রাখা হবে এবং শিক্ষাজীবন শেষে কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার পর ঋণ পরিশোধের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি ঋণ গ্রহণ প্রক্রিয়া যেন হয়রানিমুক্ত হয়, সে বিষয়েও সরকারের নজর থাকবে।
সরকার বিদেশে শিক্ষার্থী পাঠানোর এই উদ্যোগকে ‘ব্রেইন ড্রেন’ নয়, বরং ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’ হিসেবে দেখছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগবে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
এ ছাড়া শিক্ষার আধুনিকায়নে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অনলাইন কোর্সে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়েছে।