জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে এ বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন তিনি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এটি প্রথম জাতীয় বাজেট।
এর আগে সকালে মন্ত্রিপরিষদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বিশেষ সভায় এ বাজেট অনুমোদন করা হয়।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়, এরপর স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে বাজেট উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয় এবং এটি বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, নির্যাতিত নারীসহ সব আত্মত্যাগী মানুষ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারের নতুন অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা শুরু করা হচ্ছে।
সরকার ঘোষিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। বাজেটে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’র পথে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশি ও বিদেশি ঋণের মাধ্যমে পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই বাজেট অধিবেশনকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সরকারের অর্থনৈতিক নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।