জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, তর্ক উত্থাপন করে সংসদকে উত্তপ্ত করতে চাই না। শুধু একটি কথা বলতে চাই—নিজেদের কথা নিজেরাই বিচার করুন, আপনারা ৭১ সালে কোথায় ছিলেন?
শনিবার (২৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১৬তম কার্যদিবসে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, বিরোধী দলের সমালোচনা গণতন্ত্রের অংশ হলেও তা যেন গঠনমূলক হয়। তিনি বলেন, আজ আপনারা সব বিষয়ে সমালোচনা করছেন। জাতি গঠনে আমাদের সহযোগিতা করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব। আজ আমরা এপারে, একদিন আপনারা ওপারে থাকবেন—এটাই গণতন্ত্রের নিয়ম।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার একদিন আগে কারা হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছে? কারা বাংলাদেশকে বুদ্ধিশূন্য করতে চেয়েছিল? মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের দিকে তাকালেই তার উত্তর পাওয়া যাবে।
নিজের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার আহ্বান শুনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
বাজেট আলোচনায় মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের যেমন স্মরণ করতে হবে, তেমনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অবদানও কখনো ভোলা যাবে না।
তার ভাষায়, অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, অন্তত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতাটা বাড়িয়ে দিন। এতে ইতিহাসে আপনার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা হোক, তবে সংসদকে অযথা উত্তপ্ত করা উচিত নয়।
এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সংগ্রাম করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরের শাসনামলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গুম-নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, “আসুন, সবাই মিলে দেশ গড়ি। বাংলাদেশ সবার আগে।”