মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
বুধবার (১০ জুন) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গণে একটি নিমগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে আয়োজিত ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে–বিজ্ঞান মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেডআরএফের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। সঞ্চালনায় ছিলেন জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান।
এসময় বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জেডআরএফের পরিচালক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন এবং কৃষিবিদ বয়জার রহমানসহ অন্যান্য অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, অধ্যাপক আল মোজাদ্দেদী আলফে ছানী, জেডআরএফের পরিচালক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম, কৃষিবিদ শফিউল আলম দিদার, আমিরুল ইসলাম কাগজীসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশ সংরক্ষণ নয়, বরং একটি সুন্দর, সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গঠনের অন্যতম মাধ্যম। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশকে আরও সবুজ ও নির্মল করে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।
তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে ‘সবুজ বিপ্লব’-এ রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশভিত্তিক স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশ বিষয়ে আরও সচেতন করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমে সবুজ স্বেচ্ছাসেবার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করারও আহ্বান জানান।
বিজ্ঞান মেলার প্রসঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, চিকিৎসাবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্ভাবন দেশের নানা সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুগম হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই দিনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।