বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের বড় একটি অংশ যৌন নির্যাতনসহ নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এক সম্পূরক প্রশ্নে দাবি করা হয়, বিদেশে কর্মরত প্রায় ৯৪ শতাংশ নারী শ্রমিক কোনো না কোনোভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হন।
সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্পূরক প্রশ্নে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তিন লাখের বেশি নারী শ্রমিক বিদেশে গেলেও তাদের একটি বড় অংশ নিরাপত্তাহীনতা, বেতন বঞ্চনা ও চুক্তি লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন। তিনি নারী কর্মীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা হটলাইন, সেফ হোম, বীমা সুবিধা ও নিয়োগকর্তা যাচাই ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবি জানান।
আরেক সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্ভোগ ও প্রতারণার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও বিদেশে গিয়ে অনেক শ্রমিক সর্বস্ব হারিয়ে দেশে ফিরছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরু জানান, প্রবাসীদের অভিযোগ গ্রহণ ও সেবা নিশ্চিত করতে ১৬১৩৫ টোল-ফ্রি হটলাইন চালু রয়েছে। প্রবাসীরা বিদেশ থেকেও এই নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সেফ হোমের মাধ্যমে সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবে দুটি সেফ হোম পরিচালিত হচ্ছে এবং অন্যান্য দেশেও পর্যায়ক্রমে এ সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নারী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে এখন আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। কর্মপরিবেশ, নিয়োগকর্তা যাচাই এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মানদণ্ড অনুসরণ করে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি বলেন, ‘অ্যাডভান্স পুল’ নামে একটি ব্যবস্থা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে বিদেশি নিয়োগকর্তারা সরাসরি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কর্মী নিতে পারবেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমবে এবং সরকারের তদারকি বাড়বে।
সংসদে আলোচনায় নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, অধিকার সুরক্ষা এবং বিদেশে কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আইনপ্রণেতারা এ বিষয়ে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।