গত পাঁচ বছরে দেশের মোট বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি ভারতের সঙ্গে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদ-এ চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিন আহমেদের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য উপস্থাপন করেন।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বিভিন্ন অর্থবছরে ওঠানামা করেছে। সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৬.২৪ বিলিয়ন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২৮.১৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৭.১৮ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২১.৫০ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪.১৬ বিলিয়ন ডলার।
তিনি আরও জানান, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান, ভুটান এবং পাকিস্তান–এর সঙ্গেও বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের কিছু নীতিগত দুর্বলতা, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলার সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমদানি ব্যয়ের উচ্চ চাপ—বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্প কাঁচামাল—এবং রপ্তানির তুলনায় ধীর প্রবৃদ্ধি ঘাটতি বাড়িয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করছে। তবে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে আসে।
রপ্তানি বৈচিত্র্য আনতে সরকার চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার উদ্যোগ চলছে বলেও সংসদকে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর–এর মধ্যে এফটিএ সইয়ের তৃতীয় দফা আলোচনা ২০২৬ সালের আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।