রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু

ভোরের ডাক ডেস্ক

আইন-আদালত

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় রায় পড়া শুরু হয়েছে। রোববার (৭ জুন) সকাল ১১টার

2026-06-07T11:24:36+00:00
2026-06-07T11:24:36+00:00
  মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
 
  ই-পেপার   
           
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
আইন-আদালত
রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু
ভোরের ডাক ডেস্ক
রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:২৪ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় রায় পড়া শুরু হয়েছে। রোববার (৭ জুন) সকাল ১১টার দিকে ঢাকা মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় পড়া শুরু করেন।

এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে বিচার কাজের নজির তৈরি হতে যাচ্ছে।

বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

অবশ্য এর আগে তিন কার্যদিবসে মাদক মামলা নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। আর গত বছর মাগুরায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয় ১৪ কার্যদিবসে। ওই মামলায় আসামির সর্বোচ্চ সাজা প্রাণদণ্ডের রায় আসে।

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছে ভুক্তভোগী পরিবার। নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের প্রত্যাশায় আছি। আশা করছি, আদালত সর্বোচ্চ সাজা দেবেন।

মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে রায় শোনাতে আদালতে হাজির করা হয়েছে। রায় ঘিরে আদালতপাড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।

গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দেন। তিনি বলেন, আমার নাম সোহেল রানা। ওই বাসার পঞ্চম তলা বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকি।

সেখানে তিনটি রুম আছে। তিন পরিবার তিন রুমে থাকে। বাসার সবাই সকাল ৬ টার ভেতর কাজে চলে যায়। আমি নিয়মিত নেশা করি।

জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, গতকাল (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার সময় পাশের বাসার ৮ বছর বয়সি রামিসাকে দেখতে পেয়ে আমি ডাক দেই। সে আমার কাছে আসলে তাকে বাথরুমে নিয়ে যাই। সে চিৎকার করলে আমি তার মুখ চেপে ধরি।

শিশুটিকে ধর্ষণ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে ফেলার ভয়াবহ বর্ণনা দেন এ আসামি।

সোহেল বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আমার বাসার সামনে জুতা দেখে রামিসার মা ডাকাডাকি করে। সাড়াশব্দ না পেয়ে লোকজন এসে আমার দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে। আমি ভয় পেয়ে গেলে আমার বউ আমাকে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলে।

কোনো উপায় না পেয়ে সেলাই রেঞ্চ দিয়ে গ্রিল কেটে বাইরে পালিয়ে যাই। তখন উত্তেজিত লোকজন দরজা ধাক্কাধাক্কি করলে আমার বউ দরজা আটকে রেখে আমাকে পালাতে সহযোগিতা করে। পরে আমার বউ দরজা খুলে দেয়।

যেভাবে রায়ের পর্যায়ে : গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরদিন সোহেল দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর স্বপ্নাকেও পাঠানো হয় কারাগারে।

ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংস ঘটনাটি সারাদেশে ক্ষোভের জন্ম দেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাসায় গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। আশ্বাস দেন, বিচার দ্রুত শেষ করার।

ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে দুপুরে সোহেল ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। ঢাকার মহানগর হাকিম আশরাফুল হক অভিযোগপত্রটি দেখে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলির আদেশ দেন।

বিকালেই নথি পাঠানো হয় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে। সেদিনই বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন রাখেন ১ জুন।

মামলার বিচারকাজ চালিয়ে নিতে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করা হয়।

আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে ১ জুন বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২ জুন দিন রাখা হয়। সেদিন ১৭ জনের মধ্যে ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।

পরদিন ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানিতে বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও ১৬ জনের সাক্ষ্য পড়ে শোনান। বিচারক তাদের কাছে জানতে চান, তারা দোষী না নির্দোষ।

উত্তরে স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে সোহেল রানা ক্ষমা চান। বলেন, স্যার, আমি নির্দোষ। খালাস চাই।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক রায় ঘোষণার জন্য রোববার দিন ঠিক করে দেন।


Loading...
Loading...

আইন-আদালত- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: