নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন মামলাগুলোর আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিচার বিভাগ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আলোচিত মামলাসহ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আপিলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের একটি প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এ সিদ্ধান্ত জানান। নতুন এই বিশেষ বেঞ্চ আগামী ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলাসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাভুক্ত সব গুরুত্বপূর্ণ মামলার আপিল এই বেঞ্চে শুনানি হবে। তিনি বলেন, এই বেঞ্চ শুধু এ ধরনের মামলার আপিল নিষ্পত্তির জন্যই নিবেদিত থাকবে।
তিনি আরও জানান, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের স্থগিতাদেশ (অ্যাডজর্নমেন্ট) না চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শুনানি বিলম্বিত না হয়।
শিশু রামিসা হত্যা মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি নিম্ন আদালতে আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে এবং দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে হাইকোর্টের অনুমোদন ছাড়া এই রায় চূড়ান্ত নয় বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ বিচারিক বিলম্বের কারণে অনেক চাঞ্চল্যকর মামলার রায় কার্যকর হতে দেরি হচ্ছে, যা জনগণের মধ্যে শঙ্কা তৈরি করছে। বিচার দ্রুত শেষ হলে জনগণের আস্থা বাড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ছুটির মধ্যেও নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি এই উদ্যোগকে বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত হবে এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
এছাড়া, তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা—প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, আইজিপি ও পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ধন্যবাদ জানান।