ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন—ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকা, যেখানে শত শত শিক্ষার্থী ও সমর্থক জড়ো হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন।
শনিবার (৬ জুন) আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মাস ধরে পদত্যাগের দাবি জানানো হলেও সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, বরং আন্দোলনকারীদের অনলাইন কার্যক্রম দমন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বন্ধুরা, এটা একটা দীর্ঘ সংগ্রাম… আপনারা হয়তো আমাদের পোস্ট মুছে ফেলতে পারবেন, কিন্তু এই জায়গা থেকে আমাদের মুছে ফেলতে পারবেন না।
তার আলোচিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আরশোলারা ভয় পায় না, তারা মরেও না। তাই লড়াই চলবেই।
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিক্ষোভস্থলে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে থাকেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জোরালো করেন।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়।
আন্দোলনের পটভূমি হিসেবে উঠে এসেছে ভারতের ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তরুণদের একাংশকে “আরশোলা” ও “পরজীবী” বলে মন্তব্য করেন—এ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়।
এরপরই গত ১৬ মে অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টির যাত্রা শুরু হয়।
সিজেপি দাবি করেছে, চলতি বছরের এনইইটি-ইউজি ২০২৬ ,সিইউইটি, এসএসসি জিডি এবং সিবিএসই পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁস হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন আরও জোরালো করার ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতা।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সীমান্ত প্রবেশপথ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আন্দোলনের অনুমতি শর্তসাপেক্ষে দেওয়া হয়েছিল এবং সংগঠকের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পরই কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ভারতে ফিরে আসা আন্দোলন নেতা অভিজিৎ দীপকের আগমনের পর বিক্ষোভ আরও তীব্র হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে ভারতের বিশিষ্ট সামাজিক আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে সতর্ক করে বলেন, গ্রেপ্তার করা হলে তিনি দীর্ঘ অনশনে যাবেন।
সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে