চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, গণসচেতনতা ছাড়া চট্টগ্রাম শহরকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। নগরবাসীকে সচেতন হয়ে খাল ও নালায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে নগরীর চকবাজার ডিসি রোডের মিয়ার বাপের মসজিদ সংলগ্ন চাক্তাই খাল এবং সেখানে নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে ডা. শাহাদাত হোসেন খালের বর্তমান অবস্থা এবং ব্রিজের কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কথা শোনেন। পাশাপাশি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেন।
মেয়র বলেন, চাক্তাই খাল চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের দুঃখের প্রতীক। তাই ডাইভারশন খালটি নিয়মিত খনন ও পরিষ্কার রাখতে হবে। আমরা যদি ধারাবাহিকভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে পারি এবং সবাই মিলে খালে ময়লা ফেলা বন্ধ করি, তাহলে এ এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।
তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগেই চলমান ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ করে জনগণের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তিনি খালের বর্তমান অবস্থা ও ব্রিজের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। চাক্তাই খালের ওপর নির্মাণাধীন এই ব্রিজ স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় উন্নয়ন কাজ হয়, তাই কোনো ধরনের ধীরগতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, আমি নিজে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে থেকে উন্নয়ন কাজ তদারকি করছি। আমরা শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না; নাগরিকদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করতে চাই। এই নগরী আমাদের সবার, তাই একে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও সবার।
বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, ফুটপাত ও খালপাড়ে যাতে কেউ পসরা সাজিয়ে বসতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। পুনর্বাসনের পরও যারা খালের পাশে অবৈধভাবে বসছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান ও ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মহসিন, আনোয়ার হোসেন লিপু, পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ সেকান্দর, ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক হাজী মোহাম্মদ এমরান উদ্দিন, সদস্য সচিব মহিউদ্দিন মিজান, বিএনপি নেতা আবদুর রহিম, ফরিদুল হক লিটন, মো. আইয়ুব, মো. শহীদ, মো. খোকন ও মো. সেলিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং চসিকের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা।