চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের শ্রমিক–কর্মচারীরা চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। মঙ্গলবার নগরের পতেঙ্গায় অবস্থিত দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল শোধনাগারটির প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকালের দিকে নগরের পতেঙ্গায় কোম্পানির মূল প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
সমাবেশ শেষে শ্রমিক–কর্মচারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় সিবিএ নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বিক্ষোভ সমাবেশে ইস্টার্ন রিফাইনারি অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন।
শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ শ্রম আইন–২০০৬ অনুযায়ী দ্বিবার্ষিক চুক্তিনামা সম্পাদন, ২০০৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী পার্সোনাল পে বাস্তবায়ন, আবাসন সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং পদোন্নতি নীতিমালার সংস্কার।
সমাবেশে সিবিএর সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান বলেন, ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ একটি স্মারক জারি করে, যেখানে বিপিসির আওতাধীন কোনো কোম্পানির আর্থিক সুযোগ–সুবিধা বৃদ্ধি করতে হলে বিপিসির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তার দাবি, এ নির্দেশনা বাংলাদেশ শ্রম আইন–২০০৬ এবং কোম্পানি আইন–১৯৯৪–এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি আরও বলেন, স্মারকটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন–৯৮ অনুযায়ী শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়া এবং যৌথ দরকষাকষির অধিকারের পরিপন্থি। এর ফলে শ্রমিকদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ নিয়ে যৌথ আলোচনার অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
আব্দুর রহমান অভিযোগ করেন, এ কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি খাতের শ্রমিক–কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।