গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার নাকাই খাল পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে ব্যয় সাশ্রয় করে অব্যয়িত ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৮ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
পরিকল্পিত বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি ও ব্যয়ের স্বচ্ছতার মাধ্যমে কম খরচে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন হওয়ায় এই অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, হরিনাথপুর ইউনিয়নের নাকাই খাল পুনঃখননের জন্য সরকার ২ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ২৫২ টাকা। অবশিষ্ট অর্থ সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৯২০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন এবং দুই পাড়ে ১ হাজার ৪৪০টি নারিকেল, আম, জাম ও নিমগাছ রোপণ করা হয়েছে।
গত ১২ মে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে কাজের মান ও ব্যয়ের ওপর নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রপাতি, পরিবহন ও অন্যান্য সব ব্যয় পরিশোধের পরও উল্লেখযোগ্য অর্থ অব্যয়িত থাকায় তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা জানান, সদ্য বিদায়ী ইউএনও শেখ জাবের আহমেদের নিয়মিত পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার ফলে নির্ধারিত মান বজায় রেখে প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন দখল ও ভরাট হয়ে থাকায় খালটিতে পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। পুনঃখননের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে, জলাবদ্ধতা কমেছে এবং সেচ সুবিধা বেড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এই খাল দিয়ে অন্তত ২০টির বেশি বিলের পানি নিষ্কাশন হয়। ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ইউএনও আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করে কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যয় শেষে যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার।