দিনাজপুর জেলাসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে আগামী ৪ জুন থেকে এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা মৃদু তাপপ্রবাহের পর্যায়ে থাকলেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, বর্তমানে দিনাজপুরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এটি আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আগামী ৪ জুন থেকে দিনাজপুরসহ এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। যদিও রংপুর বিভাগের দু-একটি স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টিপাত শুরু হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে এবং চলমান তাপপ্রবাহের পরিস্থিতির উন্নতি হবে। এ সময় সবাইকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং রোদে দীর্ঘ সময় কাজ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ। কাজের প্রয়োজনে তাদের রোদের মধ্যেই বাইরে থাকতে হচ্ছে।
দিনাজপুর সদর উপজেলার দিনমজুর আব্দুল জলিল বলেন, সকাল থেকে কাজ করতে বের হই। দুপুরের দিকে রোদের তাপে শরীর জ্বলে যায়। কয়েকবার বিশ্রাম নিতে হয়। তারপরও সংসারের জন্য কাজ বন্ধ রাখা যায় না।
নবাবগঞ্জ উপজেলার নির্মাণশ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, এত গরমে কাজ করতে খুব কষ্ট হয়। মাথা ঘোরে, শরীর দুর্বল লাগে। বারবার পানি খেতে হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি না থাকায় গরম আরও বেড়ে গেছে।
বিরামপুর উপজেলার কৃষিশ্রমিক মজিবর রহমান বলেন, মাঠে কাজ করতে গিয়ে রোদের তাপে অনেক কষ্ট হচ্ছে। দুপুরের পর কাজ করা কঠিন হয়ে যায়। এখন সবাই বৃষ্টির অপেক্ষায় আছে। বৃষ্টি হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।
শহরের রিকশাচালক শাহ আলম বলেন, গরমে যাত্রীও কম বের হচ্ছে। আবার রোদে রিকশা চালানোও কঠিন হয়ে গেছে। সারাদিনে কয়েক বোতল পানি খেতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে মানুষ যেমন স্বস্তি পাবে, আমরাও কিছুটা আরাম পাব।
এদিকে গরমের কারণে শিশু, বয়স্ক ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সবাইকে বেশি বেশি পানি পান, হালকা খাবার গ্রহণ এবং অপ্রয়োজনে রোদে চলাচল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪ জুন থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হলে দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষ চলমান তাপপ্রবাহ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।