বাংলাদেশের বিমানবন্দরসমূহে রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ধারাবাহিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের ফলে এখন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি যুক্তরাজ্যগামী রপ্তানি কার্গোতে পুনরায় বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুর (ইডিডি) পদ্ধতি ব্যবহারের অনুমোদন কার্যকর হয়েছে।
এই অনুমোদনের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি কার্গো নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যগামী পণ্যের নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য হওয়ায় রপ্তানি কার্যক্রমে আস্থা বাড়বে এবং অতিরিক্ত পুনঃপরীক্ষা বা বিলম্বের ঝুঁকি কমবে। একইসঙ্গে সরাসরি কার্গো পরিবহণ সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রপ্তানিকারকদের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
অন্যদিকে, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ দ্বিতীয় বিস্ফোরক সনাক্তকরণ সিস্টেম (ইডিএস) চালু হওয়ায় রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিমানবন্দরটির স্ক্রিনিং কার্যক্রম আরও দ্রুত, নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। দ্বিতীয় ইডিএস চালুর ফলে কার্গো প্রক্রিয়াজাতকরণে সময় কমবে, বাড়তি চাপ মোকাবিলা সহজ হবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউকে) ও যুক্তরাজ্যে রপ্তানি কার্গো পরিবহণের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আরএ৩ বৈধতা অর্জন করে। এর আওতায় ইডিএস, এক্সরে, ইডিটি এবং ইডিডি—এই চারটি পদ্ধতিতে কার্গো স্ক্রিনিং পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগ (ডিএটি) সরাসরি ইউকে-গামী কার্গোর ক্ষেত্রে ইডিডি পদ্ধতির অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল।
পরবর্তীতে বেবিচকের ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও কারিগরি প্রচেষ্টা এবং ডিএফটি ও EU বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যগামী কার্গোর জন্য EDD অনুমোদন পুনর্বহাল করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে এখন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে EDS, X-ray ও ETD-এর পাশাপাশি ইডিডি-এর পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত হলো।
এদিকে, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২০২১ সালে RA3 বৈধতা অর্জনের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে সরাসরি রপ্তানি কার্গো কার্যক্রম শুরু করে। কিছু সময় কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে পুনরায় নিয়মিত কার্গো অপারেশন চালু রয়েছে। সম্প্রতি দ্বিতীয় EDS চালুর ফলে বিমানবন্দরটির কার্গো পরিচালন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নতুন এয়ারলাইনস ACC3 বৈধতা অর্জনে আগ্রহ দেখাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্গো পরিবহণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে দেশের বিমানবন্দরগুলো।