প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে অতীতের সহিংসতা বন্ধ করাই নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, রক্তপাতহীন নির্বাচন আয়োজন করতে ইসি সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এজন্য রাজনৈতিক দলসহ সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঐতিহাসিকভাবেই সংঘাতপূর্ণ। অতীতের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২৩৬ জন এবং ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১১৬ জন নিহত হন।
সিইসি বলেন, বর্তমান সরকারকে জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। তাই তারা অবশ্যই দেশের মঙ্গল চাইবে। সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাইবে। এতে তাদের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়বে।
তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংঘাতের ঘটনা বেশি ঘটে। অনেক জায়গায় শুধু প্রাণহানি নয়, বিপুলসংখ্যক মানুষ আহতও হন। এ পরিস্থিতি বন্ধ করতে হবে। এটি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা কোনো রক্তপাত চাই না। রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ বিষয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সংঘাত প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশন সচেতনতামূলক কর্মসূচিও চালু করবে।
তিনি বলেন, সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা পেলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব। ভোটাররা যেন নিরাপদে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় নির্বাচন কমিশন।
সিইসি আরও বলেন, দেশে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন ও প্রায় ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন আয়োজন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে জাতীয় নির্বাচন সংঘাতমুক্ত করা সম্ভব হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।