ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে পুলিশ সদস্যসহ যেকোনো ব্যক্তি বা সরকারি-বেসরকারি যানবাহনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল সোয়া ৪টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য এবং এতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, সরকারি হোক বা বেসরকারি—যে কেউ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের পুলিশ সদস্যদেরও স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি যানবাহনে হুটার ও অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, জরুরি সেবা ছাড়া হুটার ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ও ইঞ্জিন নম্বর-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, আইন লঙ্ঘন করলে সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে।
তিনি জানান, চলতি বছরের মে মাসে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ মোট ৩৮,২৮৪টি মামলা করেছে। এর মধ্যে ৬৭২টি মামলা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে করা হয়েছে। এ সময় মোট ৮ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এছাড়া আদালত ও ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে মে মাসে সড়ক ও ফৌজদারি মিলিয়ে হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তে অটোমেটেড সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যেখানে লেন ভাঙা বা আইন অমান্যকারী যানবাহন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে মামলা করা হয়।
ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রসঙ্গে কমিশনার বলেন, এগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। যেহেতু এগুলো মোটরযান নয়, তাই মামলা না দিয়ে ডাম্পিং ও সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রধান সড়কে যাতে এসব রিকশা প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।