আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদারকে নতুন করে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া পৃথক পাঁচ মামলায় জামিন পেয়ে কারাগারে জামিননামা জমা দেওয়া হয়েছিল।
সোমবার (১৮ মে) ঢাকার পৃথক তিন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কারাগার থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্করকে আদালতে হাজির করে ভাটারা থানা, পল্টন মডেল থানা ও বংশাল থানার পৃথক তিনটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক বিমান তরফদার, বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মাহফুজুল হক ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক জ্যোতির্ময় মন্ডল তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার ও ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখান।
এ বিষয়ে দীপঙ্করের আইনজীবী মিজান মোহাম্মদ মহসিন বলেন, তিনি হাইকোর্ট থেকে পাঁচটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। গত ১৩ মে তার জামিননামা দাখিল করা হয়। তিনি যখন কারামুক্ত হবেন, তখন তাকে তিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। গ্রেপ্তার না দেখানোর বিষয়ে শুনানি করেছিলাম। আদালত সব মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। এ জন্য তার কারামুক্তি হচ্ছে না।
দীপঙ্কর তালুকদার পার্বত্য রাঙামাটি আসনের পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকারে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে রাজধানীর সোবহানবাগ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।