মজিবুর রহমান মঞ্জু আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম এই সংগঠক, রাজনীতির বিশ্লেষক। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, যার মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক জোটের প্রস্তাব এবং জুলাই চার্টারে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। রাজনীতির নানা বিশ্লেষণ নিয়ে দৈনিক ভোরের ডাকের মুখোমুখি হন মজিবুর রহমান মঞ্জু। সম্প্রতি পত্রিকাটির সিনিয়র সাংবাদিক আবদুর রহমান মল্লিক সাক্ষাৎকার নেন তার দলীয় কার্যালয়ে। সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো :
প্রশ্ন : আপনি জুলাই আন্দোলনের শীর্ষ সংগঠক ছিলেন। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে।
মজিবুর রহমান মঞ্জু : একটি দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতা হিসেবে আমরা জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম। এটি ছিল জীবন-মরণ যুদ্ধের মতো। এই আন্দোলন যদি সফল না হতো তবে আমাদের অনেকের জীবন বিপন্ন হতে পারত। সেটা বিএনপি হোক, জামায়াত হোক, শিক্ষার্থী হোক সবার জীবন ঝুঁকির মধ্যে চলে যেত। যারা আমরা জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে তাদের একক জনের একেক ধরনের মোটিভ ছিল। একেক জন একেক অবস্থান থেকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছে। ম্যাসিভ ওয়েতে যখন ছাত্র জনতা তখন নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রতিবাদেই রাস্তায় নেমে এসেছে। এই হিসেবে আমাদের প্রাপ্তিটা অনেক বড়। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে যে আকাঙ্ক্ষাটা তৈরি হয়েছিল- রাষ্ট্রের একটা গুণগত পরিবর্তন আসবে। সেই পরিবর্তনের মধ্যে দেখা গেল যারা জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ল। সেখানে আমাদের প্রত্যাশার তিনটা প্রয়োরিটি ছিল-প্রথমটা হচ্ছে, ফ্যাসিবাদ এবং গুম গুম খুনের যারা মদদদাতা তাদের বিচার, দ্বিতীয়ত, হাজার হাজার ভাইবোন যারা নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদের পুনর্বাসন। তৃতীয়ত, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার ও একটা সুন্দর নির্বাচন। আমারা দেখেছি যাদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার আকাঙ্ক্ষা বেশি ছিল বিশেষ করে বিএনপি-বিচার এবং সংস্কারের প্রশ্নে তারা বলেছে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যারা আসবে তারা করবে। এটা নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব। রাজনৈতিক সরকারের বিচার এবং সংস্কারের আগ্রহ কম তাই আমরা চেয়েছিলাম কার্যকর একটা সংস্কার এবং বিচারের অগ্রগতির পরই একটা নির্বাচন। এ ব্যাপারে বিএনপি দারুণভাবে অসহযোগিতা করেছে। ফলে কার্যকর সংস্কার ও বিচারের রায় কার্যকরের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বিবেচনায় গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ফ্যাসিবাদের বিদায় ছিল বড় আকাঙ্ক্ষা, সেই ফ্যাসিবাদ যে তল্পিতল্পাসহ পালিয়েছে সেটি একটা বড় বিজয়। যে কাজটা আমরা করতে পারিনি তার জন্য লড়াইটা চালিয়ে যাব। জুলাই আমাদের সে লড়াইয়ের প্রেরণা।
প্রশ্ন : আপনার বক্তব্যে রাষ্ট্রসংস্কারের বিষয়টি খুব গুরুত্ব পায় । বর্তমান সংসদ সে ব্যাপারে কতটুক ভূমিকা পালন করতে পারে মনে মনে করেন?
মজিবুর রহমান মঞ্জু : বর্তমান সরকার যাতে রাষ্ট্র সংস্কারের ভূমিকা নেয় সেজন্য ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিলাম। বিএনপি যে যুগপৎ আন্দোলন করেছিল সেখানে ৩১ দফার একটা কমিটমেন্ট ছিল। অতীতে আমরা দেখেছি রাজনৈতিক সরকারগুলো কোনো সংস্কার বাস্তবায়ন না করে একক কর্তৃত্বে দেশ পরিচালনা করতে চান। এবারও আমরা ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে সে প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি। বিরোধীদল সংস্কারের ব্যাপারে সোচ্চার থাকলেও বিএনপি সংস্কারের ব্যাপারে অনাগ্রহটা দেখিয়েই যাবে। সেক্ষেত্রে জুলাইয়ের পক্ষের শক্তি আমরা যদি সবাই অনঢ় থাকি তবে সরকারের ওপর একটা চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নে সফল হবো।
প্রশ্ন : এগারো দলীয় জোটের সাথে নির্বাচন করেছেন। এখনো কী জোটের সাথেই আছেন?
মজিবুর রহমান মঞ্জু : এগারো দলীয় জোটের সাথে আমাদের যে ইউনিটিটা হয়েছিল তা ছিল শুধুমাত্র নির্বাচনকেন্দ্রিক। ইলেকশনের পরে আমাদের এই ইউনিটির কার্যকারিতা থাকার কথা না। পরবর্তীতে আমরা দেখলাম বিএনপি ক্ষমতাসীন হয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংস্কার এবং গণভোট নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য দিচ্ছে তখন আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার। আমার এই জোটটা কিছুটা আন্দোলন আকারে কাজ করছে। বিএনপি যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তাদের নোট ডিসেন্টগুলো কনসিডার করেন এবং জুলাই সনদ অক্ষরে পালন করবেন এই অঙ্গীকার যদি বাস্তবায়ন করে তাহলে আমাদের এই জোট আর থাকবে না।
প্রশ্ন : জোটবদ্ধ হবার কারণে আপনার দল এবি পার্টি কী লাভবান হয়েছে ?
মজিবুর রহমান মঞ্জু : জোটবদ্ধ হয়ে দলগতভাবে হযতো আমরা লাভবান হতে পারিনি। তবে আমি মনে করি জুলাইযের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আন্দোলনে লাভবান হয়েছি। একটি দল জোটবদ্ধ হলে ব্যক্তিগত লাভ আর সামষ্টিক লাভ আলাদা করা যায় না। যে নির্বাচনটা হয়েছে তা একটা পুরনো কাঠামোর মধ্যদিয়ে হয়েছে, ফলে নির্বাচনে আমরা ভালো ফল পাইনি। কিন্তু আমাদের প্রতি যে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে সেটা বুঝতে পেরেছি। আগামী দিনে এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অগ্রসর হবো ইনশাল্লাহ।
প্রশ্ন : আপনার দল এবি পার্টি ষষ্ঠ বছরে পদার্পণ করল। এ সময়ে দলের অ্যাচিভমেন্ট কী সংক্ষেপে যদি বলেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু : একটি দলের অ্যাচিভমেন্ট আসে চলমান কর্মকাণ্ডের মধ্যদিয়ে। প্রথমত, ছয়বছরে এবি পার্টি জনগণের কাছে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আমাদের নেতৃবৃন্দকে জনগণ সেভাবে চিনত না এখন চিনতে পারছে। আমাদের চিন্তা-বক্তব্য শুধু আমাদের মাঝে থাকেনি যারা নতুন চিন্তা নিয়ে রাজনীতি করছে তাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের ন্যারেটিভ জনগণের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। আমরা দলগতভাবে লড়াই করে আমরা দলের নিবন্ধন পেয়েছি। প্রথম বারের মতো আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। যদিও আমরা মাত্র তিনটি আসনে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করেছি। দলের পরিচিতি ও নিবন্ধন ছাড়াও গঠনতান্ত্রিক এবং গণতান্ত্রিকভাবে দলের কাউন্সিল আমরা করতে পেরেছি। দ্বিতীয় ধাপের অ্যাচিভমেন্ট হলো দলকে আরও সুসংহত করা, দলের নেটওয়াককে বিস্তৃত করা। দলের ন্যারেটিভকে প্রপারলি এবং প্রপার ফরমেটে হাজির করা। আগামী দু বছর এটা নিয়ে আমরা কাজ করব। আশা করি এটার ফলাফল আরও সুদূরপ্রসারী হবে।
প্রশ্ন: বর্তমান বাস্তবতায় এবি পার্টির গণসংগঠন হবার সম্ভাবনা কতটুকু।
মজিবুর রহমান মঞ্জু : বর্তমান বাস্তবতায় এবি পার্টির গণসংগঠন হবার যে প্রসেস সে প্রেসেসে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। বিশেষ করে আর্থিক সংকট ও জনমুখী নেতৃত্ব তৈরি করা। এ ব্যাপারে আমরা কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছি সমস্যা মোকবেলা করার জন্য। বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক কাঠামো ও গতানুগতিক প্রক্রিয়া এই প্রক্রিয়ায় একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত হতে হলে প্রচুর অর্থের মালিক হতে হয়। তার সামাজিক প্রভাব বিস্তৃত থাকতে হয়। এই জায়গাটায় নতুন রাজনৈতিক দলের কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বাংলাদেশের রাজীতিতে ক্ষমতায় যারা থাকে তারা এই কাঠামোতে এগিয়ে থাকে। বিন্দু থেকে গড়ে ওঠা দল হিসেবে পুরনো দলগুলোর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে খুব একটা সফল হইনি। আমরা কিন্তু পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বদলাতে চাচ্ছি। নতুন ধারণা নিয়ে যারা রাজনীতি করতে চায় তাদের আমরা সামনে আনতে চাচ্ছি। আমাদের সংগ্রাম চলবে। তরুন সমাজের যে আগ্রহ আছে আমরা তাতে খুব উৎসাহিত। গত নির্বাচন বলছে ইনশাল্লাহ পরিস্থিতি বদলাবে। পুরনো কাঠামো এটা থাকবে না। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এই পরিবর্তনের জন্য আরও একটি বিপ্লব সংগঠন করতে হতে পারে।
প্রশ্ন : অধ্যাপক ইউনূসের ব্যাপারে কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রচারণাকে আপনি কীভাবে দেখছেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু : অধ্যাপক ইউনূসের দুটো দিক। একটি হচ্ছে তার সাফল্য আরেকটি হচ্ছে তার ব্যর্থতার দিক। সাফল্য এবং ব্যর্থতার দুটো দিকই তার মধ্যে আছে। উনার কাছে যেহেতু আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল সে কারণে উনার ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা করছি, আগেও করেছি। তার বিরুদ্ধে কিছু প্রপাগান্ডা আছে যেটা পরাজিত ফ্যাসিস্টের দোসররা তাকে নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য করছে। আমি এটাকে আলাদা করতে চাই, প্রথম কথা হচ্ছে, যারা ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা করছেন তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের ফেস করা দরকার। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে প্রফেসর ইউনূসের যে ব্যর্থতাগুলোকে যদি আমরা দুই ভাগে ভাগ করি তার একটি হচ্ছে তার অনভিজ্ঞতাজনিত ব্যর্থতা আর একটি হচ্ছে যদি কোনো দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয় থাকে। আমরা সেব্যাপারে স্পষ্টভাবে বলব তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। প্রফেসর ইউনূসকে যে কারণে আমরা স্যালুট করি সেটা হচ্ছে একটা গণঅভ্যুত্থানের পর যারা দেশের দায়িত্ব পালন করেন অনেক দেশে আমরা দেখিছি তাদের একটা গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি ফেস করতে হয়। একটা ভঙ্গুর রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রফেসর ইউনূস ও তার ব্যক্তিত্ব থেকে আমরা বেনিফিটেড হয়েছি এবং দেড় বছরের মধ্যেই অপেক্ষাকৃত একটা গ্রহনযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন আমরা পেয়েছি। তিনটি কারণে প্রফেসর ইউনূসকে ক্রেডিট দিতে হয় একটি হচ্ছে গৃহযুদ্ধ এড়ানো, দ্বিতীয় হচ্ছে অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রাষ্ট্রটাকে রক্ষা করা, তৃতীয় হচ্ছে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। কিন্তু উনি সংস্কার বিচার এবং আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।
প্রশ্ন: উনিতো (ইউনূস) সংস্কার চেয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোইতো একমত হতে পারেনি।
মজিবুর রহমান মঞ্জু : উনি সংস্কার চেয়েছেন কিন্তু যে দক্ষতা ও সাহসের দরকার ছিল সেখানে আমরা ঘাটতি লক্ষ করেছি।
প্রশ্ন : পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়টাকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু : পশ্চিমবঙ্গে শুধু নয় পুরো ভারতে বিজেপি ধর্মভিত্তিক দল হওয়া সত্ত্বেও রাজনীতিতে যে একটা উদারমনা ছাপ ফেলতে পেরেছে সে ক্ষেত্রে তারা বেনিফিটেড হয়েছে। বাংলাদেশেও আমরা দেখছি ধর্মভিত্তিক দলের পছন্দের মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এর একটি কারণ হতে পারে, দেশে ধর্মপ্রাণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। দ্বিতীয় কারণ হতে পারে যারা ধর্মভিত্তিক দল করে তারা অ্যাপারেন্টলি সৎ ও দেশপ্রেমিক, অন্যায় অত্যাচার জুলুম নির্যাতন দুর্নীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা কম। ফলে প্রাকটিক্যাল রাজনীতিতে সাধারণ মানুষ তাদের প্রতি সফট হয়ে যাচ্ছে। এটা বাংলাদেশেও দেখা যাচ্ছে ভারতেও দেখা যাচ্ছে। শুধু ধর্মের উত্থান বলে বিজেপিকে মোকাবিলা করলে হবে না। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অপনেন্টহিসেবে যারা কাজ করছে মমতার তৃণমূল তারা কিন্তু গুড গভর্নেস দিতে পারে নাই। আর্থিক সংকট সমস্যার সমাধান করতে পারে নাই। ফলে মানুষের কাছে মমতার রাজনীতির যে প্রগতিশীল উপস্থাপনা সেটি সত্ত্বেও তার অব্যস্থাপনা ও শাসন ব্যবস্থার দুর্বলতা মানুষের সামনে চলে এসেছে। বাংলাদেশেও আওয়ামী লীগ বিএনপির চাইতে ধর্মীয় দলগুলোকে বেটার ভাবতে শুরু করেছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে মোকাবেলা করতে চাইলে সুশাসন, আইনশৃঙ্খলা দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে। শুধু রেটরিকভাবে প্রগতি আর ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে তা মোকাবেলা করা যাবে না। সেটা করতে গেলে তারা আরও জনপ্রিয়তা পাবে।
প্রশ্ন: বর্তমান সরকারের ব্যবস্থাপনা কতটা শক্তিশালী হচ্ছে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ প্রাসঙ্গিকতা পাবে কিনা।
মজিবুর রহমান মঞ্জু : মুক্তিযদ্ধের পর মানুষযেভাবে অন্যায় অনিয়ম ফেস করেছে তখন কাউকে কাউকে বলতে শোনা গেছে পাকিস্তান আমল অনেক ভালো ছিল। আবার পাকিস্তান আমলে কেউ কেউ বলেছে ব্রিটিশ আমল ভালো ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে পাকিস্তান পরিস্থিতি আর ফিরে আসেনি। পাকিস্তানের রাজনীতির সেই স্বৈরশাসন বাস্তবতায় আসেনি। কারণ গণহত্যা রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে অপাঙক্তেয় করে ফেলে। জুলাইয়ে গণহত্যাওই কনটেক্স্টে অপাঙক্তেয় করে ফেলেছিল। বিএনপির অনিয়ম দুশাসনের কথা বলতে গিয়ে হয়ত কেউ বলবে আ্ওয়ামী লীগ এই এই পারসপেকটিভে ভালো ছিল কিন্তু যখনই গণগত্যার প্রসঙ্গ আসবে তখন তারা পিছিয়ে যাবে। একাত্তরে পাকিস্তানের ব্যাপারে যেমন ঘটেছিল। ২৫ মার্চের গণহত্যাকে কেউ জাস্টিফাইড করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ এই ২৪ এর গণহত্যাকে জাস্টিফাই করতে পারবে না। হয়তো কেউ প্রাসঙ্গিকভাবে বলবে আওয়ামী লীগ ব্রিজ করেছে,মেগাপ্রজেক্ট করেছে, মেট্রোরেল করেছে কিন্তু তারা যে দুর্নীতি গুম খুন অত্যাচার নির্যাতন করেছে বিএনপি যদি তাদের চেয়ে বেশি করে তখন সেটা প্রাসঙ্গিকতা পেতে পারে, আদারওয়াইজ না। এটা আলাচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে ইতিহাসের অংশ হতে পারবে না।
প্রশ্ন : এবি পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে এই সময়ে জনগণের প্রতি আপনার বার্তা কী ।
মজিবুর রহমান মঞ্জু : জনগণের কাছে যেটা আহ্বান, আমরা এই ৫৪ বছরে আমরা যেটা দেখেছি রাজনৈতিক ব্যবস্থার যদি পরিবর্তন করা না যায়, পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তে যদি নতুন রাজনীতির বন্দোবস্ত না হয় তবে ছোট খাটো দু একটি উন্নয়ন দিয়ে ভালো কিছু হবে না। এবার একটা সুযোগ ছিল কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে পুরনো রাজনীতির কাছ জনগণকে ফিরে যেতে হয়েছে। ৭১ এ ৯১ এ ২৪ এ যেভাবে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে নতুন রাজনীতির বন্দোবস্তের জন্য সেইভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
প্রশ্ন : আপনাকে ধন্যবাদ
মজিবুর রহমান মঞ্জু : আপনাকেও ধন্যবাদ। ভোরের ডাকের প্রতি আন্তরিক সদিচ্ছা রইলো।