সিন্ডিকেট ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে দুই সিটি

সাইদুল ইসলাম

সারাদেশ

আসছে পবিত্র ঈদুল আজহায় রাজধানীতে এবার ২৬টি পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায়

2026-05-07T16:38:38+00:00
2026-05-07T16:38:38+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬,
২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
  ই-পেপার   
           
বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
সারাদেশ
রাজধানীতে বসছে ২৪ পশুর হাট
সিন্ডিকেট ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে দুই সিটি
সাইদুল ইসলাম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৪:৩৮ পিএম 
আসছে পবিত্র ঈদুল আজহায় রাজধানীতে এবার ২৬টি পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১২টি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১২টি হাট বসছে। হাটগুলোর জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে চাহিদা অনুযায়ী হাটের সংখ্যা আরো বাড়তে বা কমতে পারে। এছাড়া, গাবতলী ও সারুলিয়া স্থায়ী পশুর হাটেও বরাবরের মতো পশু বিক্রি হবে। এসব হাট ইজারা নিতে সরকার ও বিরোধী দলের অনেক নেতাই চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। এতে যে কোনো সময় সংঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কারণ ইতোমধ্যে দরপত্র বিক্রি ও জমাদানে বাধা দেওয়াসহ দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। দুই সিটি বলছে আগের মতো প্রভাবশালী সিন্ডিকেট যাতে হাট ইজারা নিতে না পারে সে বিষয়ে আমরা নজর রাখছি। প্রত্যাশানুযায়ী দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ দরদাতাকেই পশুর হাটগুলো ইজারা দেওয়া হবে।

*ইজারা নিতে মুখোমুখি অবস্থানে সরকার-বিরোধী দল
*দরপত্র বিক্রি ও জমাদানে বাধা, হাতাহাতি

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত সরকার দায়িত্বে থাকাকালীন প্রতি বছরই হাট ইজারা দিয়েছে দুই সিটি। কিন্তু কোনোবারই কাক্সিক্ষত দর পায়নি। কারণ প্রতি বছরই সিন্ডিকেট করে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন হাট ইজারা নিয়েছে। এ বিষয়ে দুই সিটির ভাষ্য সিন্ডিকেটের কাছে তারা অনেকটা অসহায় ছিল। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তবে এবার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে দুই সিটি। কারণ দুই সিটির প্রশাসক ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দিয়েছেন ইজারা মূল্য নির্ধারণ করে যেনো হাট ইজারা দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিগত ১৭ বছর রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাটগুলো তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরের বছর দুই সিটির অস্থায়ী পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ বিএনপি নেতাদের হাতে থাকলেও এবার সেটা নেই। এবার কিছু হাটের নাম পরিবর্তন করে খাতা-কলমে জায়গা কমিয়ে সরকারি মূল্য কমালেও বিএনপি নেতাদের সাথে জামায়াত নেতারা অংশ নেওয়ায় হাটের দরে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। এসব হাটের মধ্যে শুধু দুটি হাটে সিন্ডিকেটের কারণে কোনো দরই পড়েনি, আরেকটি হাটে গত বছরের ধারাবাহিকতায় সরকারি মূল্যের চেয়েও কম দর পড়েছে। ফলে হাট ইজারা নিতে সরকার ও বিরোধী দলের নেতারা তৎপর থাকায় তাদের মধ্যে যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। 
জানা যায়, গত বছর দনিয়া কলেজের পূর্ব পাশে ও সনটেক মহিলা মাদ্রাসার পূর্ব-পশ্চিমের খালি জায়গা নামে হাটটি স্থানীয় বিএনপির নেতা তারিকুল ইসলাম তারেক ইজারা নেন। এ বছরও তারেক দরপত্রের জন্য ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার জমা দিলেও কোনো দর উল্লেখ করেননি। অন্যদিকে এবার স্থানীয় জামায়াত নেতা শামীম খানের প্রতিষ্ঠান কে বি ট্রেড সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা দর দিয়েছে। সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগ দর উন্মুক্ত করার সময় এ হাটটি চূড়ান্ত না করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর আগে গত ২৭ এপ্রিল দুপুর ১টার দিকে দক্ষিণ সিটির সম্পত্তি বিভাগে যাত্রাবাড়ীর কাজলা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট এবং শ্যামপুর কদমতলী ট্রাক স্ট্যান্ড-সংলগ্ন জায়গা নামে হাটের দরপত্র সংগ্রহ করতে আসেন শ্যামপুর থানা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় শ্যামপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিমেল, যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির নেতা শ্যামলের সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় এবং ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দরপত্র বিক্রি নিশ্চিত করে সংস্থাটি। এদিকে, দুই সিটির হাটগুলোতে গতবারের ন্যায় পশু কেনাবেচা চলবে ঈদের দিনসহ মোট পাঁচদিন। এবার দক্ষিণ সিটির ১২টি অস্থায়ী হাটের মধ্যে রয়েছে, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিম পাশে নদীর পাড়ে খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গা, রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গা, আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গা ও শ্যামপুর-কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ডের খালি জায়গা। এছাড়া শিকদার মেডিক্যাল সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গা, কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি পানির পাম্প সংলগ্ন রাস্তার অব্যবহৃত জায়গা, দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং থেকে জুরাইন রেলক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার খালি জায়গা, মোস্তমাঝি মোড় সংলগ্ন বনশ্রী হাউজিংয়ের খালি জায়গা, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের খালি জায়গা এবং গোলাপবাগের আউটার স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের খালি জায়গা। অন্যদিকে গাবতলী স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি উত্তর সিটি এলাকায় ১২টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। হাটগুলো হচ্ছে, খিতক্ষেত বাজার সংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন ৬ (ইস্টার্ন হাউজিং) এর খালি জায়গা, মিরপুর কালশী বালুর মাঠের (১৬ বিঘা) খালি জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের খালি জায়গা, মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার সংলগ্ন খালি জায়গা, পূর্ব হাজীপাড়া, ইকরা মাদ্রাসার পাশের খালি জায়গা, মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তা সংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তরা দিয়াবাড়ী ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন বউ বাজার এলাকার খালি জায়গা, ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানাভোলা অ্যাভিনিউ সংলগ্ন উত্তরা রানাভোলা ব্লুইসগেট পর্যন্ত খালি জায়গা, কাচকুড়া বাজারসংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকার খালি জায়গা, মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ার খালি জায়গা এবং ভাটারা সুতিভোলা খালসংলগ্ন খালি জায়গা।
জানা যায়, এসব হাটের ইজারাদার ঠিক করতে ইতোমধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার উত্তর সিটির প্রথম পর্যায়ের দরপত্র খোলা হয়। এর মধ্যে খিলক্ষেত বাজারসংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গা (সরকারি দর ছিল ১ কোটি ৫১ লাখ), মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার-সংলগ্ন খালি জায়গা (১৪ লাখ), মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তাসংলগ্ন খালি জায়গা (১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার) এবং ভাটারা সুতিভোলা খাল অস্থায়ী হাটের (৩ কোটি ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা) জন্য কোনো দরপ্রস্তাব জমা পড়েনি। এছাড়া, দিয়াবাড়ী এলাকার হাটের জন্য চার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দর পাওয়া যায়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার দরপ্রস্তাব করেছে এসএফ করপোরেশন। অন্যদিকে, দক্ষিণ সিটির যাত্রাবাড়ী এলাকার কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের খালি জায়গায় কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাটের চলতি বছর সরকারি ইজারা মূল্য ধরা হয় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আগের বছর এই হাটের মূল্য ছিল ৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ফলে এবার প্রায় এক কোটি টাকা কমে দর নির্ধারণ করা হয়েছে। খাতা-কলমে এ হাটের সীমানা দনিয়া কলেজের পূর্ব পাশ থেকে শুরু করে সনটেক মহিলা মাদ্রাসার পূর্ব-পশ্চিমের খালি জায়গা পর্যন্ত ছিল। কিন্তু এবার এটি মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের খালি জায়গা নিয়ে নির্ধারণ করে গত ৩০ এপ্রিল হাটের ইজারার দর উন্মুক্ত করা হয়। তবে সরকারি মূল্য কমলেও হাটটির প্রতিযোগিতা হয়েছে সর্বোচ্চ। চারটি দরপত্রের মধ্যে তিনটিতে চার কোটি টাকার বেশি দর এসেছে, আরেকটির দর না এলেও সর্বোচ্চ পে-অর্ডার জমা দিয়েছেন। শুধু এ হাটেরই এমন চিত্র নয়, দক্ষিণ সিটির আরো কিছু হাটের একই চিত্র দেখা গেছে। এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, এবার হাটগুলো বুঝে শুনেই ইজারা দেওয়া হবে। কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সুযোগ নেই। আমাদের কাক্সিক্ষত দর অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরতাকেই পশুর হাট ইজারা দেওয়ার বিষয়ে আমরা কাজ করছি।



Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
ফলো করুন: