দেশের ক্রীড়া প্রশাসন যখন সম্পূর্ণ পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই জাতীয় কারাতে প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন। আগামী ১৬–১৮ এপ্রিল নির্ধারিত এই আয়োজনকে ঘিরে ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্নের ঝড় উঠেছে।
সম্প্রতি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সকল অ্যাডহক কমিটি বাতিল করা হয়। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী সব নির্দেশনাও রহিত করা হয়েছে। ফলে দেশের ক্রীড়া প্রশাসনের তৃণমূল স্তর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং অধিকাংশ জেলা ক্রীড়া সংস্থা এখন কার্যকর কমিটিহীন অবস্থায় রয়েছে।
এমন বাস্তবতায় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা আয়োজন কতটা যৌক্তিক—তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক খেলোয়াড় বাছাইয়ের সুযোগ না থাকায় জাতীয় প্রতিযোগিতার মূল কাঠামোই ভেঙে পড়ছে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খেলোয়াড় নির্বাচন করা হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর। ফলে প্রকৃত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে একটি সীমিত গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ২৮ মার্চ পর্যন্ত ঈদের সরকারি ছুটি থাকায় খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগও নেই। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা আয়োজনকে অনেকেই “হটকারি” সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ফেডারেশনের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে। ক্রীড়াঙ্গনের একাধিক সূত্রের দাবি, জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাধ্যমেই কাউন্সিলর মনোনয়ন হয়, যারা পরবর্তীতে ফেডারেশন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সেই প্রেক্ষাপটে তড়িঘড়ি করে প্রতিযোগিতা আয়োজনের পেছনে একটি নির্দিষ্ট পক্ষের নির্বাচনী সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, “জেলা পর্যায়ে কোনো কার্যকর কমিটি নেই, খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির সুযোগ নেই—এরপরও এমন আয়োজনের চেষ্টা স্বাভাবিক ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার অংশ হতে পারে না।”
তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হলে তা একটি “সীমিত অংশগ্রহণের প্রতিযোগিতা”তে পরিণত হবে, যেখানে প্রকৃত প্রতিযোগিতা ও ন্যায্যতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
এ পরিস্থিতিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিযোগিতাটি অবিলম্বে স্থগিত না করলে দেশের কারাতে অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং ক্রীড়া প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।