দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এক সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে তিনটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী ট্যাংকার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে একটি ট্যাংকার ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় এসে পৌঁছেছে এবং বাকি দুটি আগামী বুধবারের মধ্যে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রায় ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘এইচএল পাফিন’ নামের একটি ট্যাংকার বৃহস্পতিবার কুতুবদিয়া উপকূলে পৌঁছেছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি বহনকারী ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরও দুটি ট্যাংকার বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে আগামী বুধবারের মধ্যে বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্যাংকার দুটির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জাহাজ দুটি পৌঁছানোর প্রস্তুতি চলছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো পরিবর্তনের খবর নেই।
বাংলাদেশে আমদানি করা এলএনজির বড় একটি অংশ কাতার থেকে আসে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে সম্প্রতি এই সরবরাহে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাতার থেকে দুটি ট্যাংকার আসার কথা থাকলেও সেগুলো এখনো পৌঁছায়নি। এর মধ্যে একটি ট্যাংকার রাস লাফান বন্দর এলাকায় এলএনজি বোঝাই অবস্থায় আটকে আছে বলে জানা গেছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মাসে এখন পর্যন্ত দেশে মোট সাতটি এলএনজি ট্যাংকার এসেছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০ থেকে ১১টি ট্যাংকার এসে থাকে।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা দেশের জন্য এলএনজি আমদানি করে থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে বিকল্প দেশ থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টা চলছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে কিছু অনিশ্চয়তা থাকলেও আপাতত বড় ধরনের গ্যাস সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে তারা মনে করছেন।