মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সাবেক ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কনজারভেটিভ ব্যক্তিত্ব ক্যারি প্রেজিন বোলার। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) Piers Morgan Uncensored অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোলার দাবি করেন, ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (MAGA) আন্দোলন কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নীতিনির্ধারণে বিদেশি প্রভাব, বিশেষ করে ইসরায়েল-এর প্রভাব স্পষ্ট। তার দাবি, এই প্রভাবের কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।
বোলার বলেন, ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের মধ্যেই এখন বিভাজন তৈরি হয়েছে এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রকৃত অর্থ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর প্রভাবই এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও অসন্তোষের ইঙ্গিত মিলেছে। জো কেন্ট, ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের পরিচালক, পদত্যাগ করে জানিয়েছেন—এই যুদ্ধকে তিনি সমর্থন করতে পারছেন না। তার মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার পর থেকেই রিপাবলিকান মহলে মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের ‘বিদেশি যুদ্ধে না জড়ানো’ প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বর্তমান অবস্থান সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন অনেকেই।
প্রায় দুই দশক ধরে ট্রাম্পের সমর্থক হিসেবে পরিচিত বোলার এখন তার কঠোর সমালোচক। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশ মনে করে—বিদেশি স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে জড়ানো হয়েছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা ‘ড্রেন দ্য সোয়াম্প’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে বিদেশি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন, ভবিষ্যতে ভোটাররা তাদের আর সমর্থন করবে না।