বাংলাদেশে মাদক ব্যবহার প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও পেশাগত কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাব্সটেন্স ইউজ প্রোফেশনালস (আইস্যাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৫) বিকাল ৩টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ চ্যাপ্টারের উদ্বোধন করা হয়। এতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী, তরুণ নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. বাহাউদ্দীন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমান, ইউএনওডিসির ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর (এইচআইভি/এইডস) আবু তাহের, ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)’র স্পেশাল রিপোর্টার জাহাঙ্গীর আলম এবং আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের কোঅর্ডিনেটর মারজানা মুনতাহা। এ ছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে আইস্যাপের ন্যাশনাল চ্যাপ্টার কোঅর্ডিনেটর মিস ওলহা মাইশাকিভস্কা অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক এবং আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মেম্বার সেক্রেটারি ইকবাল মাসুদ বলেন, বর্তমানে মাদক ব্যবহার একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব শুধু ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; পরিবার, সমাজ এবং সামগ্রিক উন্নয়নেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও জানান, ২০১৫ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইস্যাপের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের মধ্য দিয়ে এই সহযোগিতার সূচনা হয়। এরপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন, ওয়েবিনার ও জ্ঞান বিনিময়মূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে মাদক প্রতিরোধ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে আইস্যাপের জাতীয় চ্যাপ্টার প্রতিষ্ঠা এবং এর আয়োজক হিসেবে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনকে দায়িত্ব দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মূল লক্ষ্য হলো প্রমাণভিত্তিক মাদকবিরোধী কার্যক্রম প্রচার, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গবেষক, চিকিৎসক, সমাজকর্মী, নীতিনির্ধারক ও কমিউনিটি নেতাদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার হবে এবং মাদক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যকর ও মানবিক উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয় এবং সংগঠনটির লোগো উন্মোচন করা হয়। বক্তারা বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে মাদক প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের পেশাগত মান উন্নত হবে এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখী গাঙ্গুলি। এতে ইউএনওডিসি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিরা আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সফল কার্যক্রম কামনা করেন এবং দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।