ভোক্তার মজুরি বাড়ার হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার এখনো বেশি। ফলে সাধারণ মানুষের আয়ের চেয়ে খরচ হচ্ছে বেশি, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের জীবনযাত্রার মান ও ক্রয়ক্ষমতার ওপর। গত বছরের তুলনায় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও মজুরি বৃদ্ধির মন্থর হার এখন অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি বনাম মজুরি: পরিসংখ্যানের চিত্র
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮.৫ শতাংশ। এর বিপরীতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.১ শতাংশের নিচে এবং তা অপরিবর্তিত ছিল। এর আগেও অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.১৭ শতাংশ এবং মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ শতাংশ। অর্থাৎ, মানুষ যে হারে আয় করছে, তার চেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়।
খুচরা ও পাইকারি বাজারের ব্যবধান
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও খুচরা বাজারে তার সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের দামের বিশাল ব্যবধান মূল্যস্ফীতিকে প্রত্যাশিত পর্যায়ে নামতে দিচ্ছে না। বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
"পারিবারিক ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে টেকসই নীতিগত সতর্কতা অবলম্বন করা এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য।" — বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবেদন।
ভবিষ্যৎ ঝুঁকি ও সুপারিশ
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে আমদানি করা খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত—উভয় খাতের পণ্যই মূল্যস্ফীতিতে বড় অবদান রেখেছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্যমাত্রা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। টেকসই অর্থনীতি নিশ্চিত করতে হলে বাজার তদারকি জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই।