
গত শনিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতি ও ফলাফল পাল্টে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তার উত্থাপিত প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
ফলাফল শিটে কারসাজি: অনেক কেন্দ্রে ফলাফল শিটে ঘষামাজা (ওভাররাইটিং) এবং পেন্সিল দিয়ে নম্বর লেখার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এজেন্টদের বাধা: কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং সাধারণ ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ।
ফলাফল ঘোষণায় রহস্য: কিছু আসনে অস্বাভাবিক ধীরগতিতে এবং কিছু আসনে অতি দ্রুত (বিদ্যুৎগতিতে) ফল ঘোষণা করে পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে মোট ৩০টি আসনে ভোট পুনঃগণনার আবেদন করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য আসনগুলো হলো: ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩ ও ৫, লালমনিরহাট-১ ও ২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩ ও ৫, বরগুনা-২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ৪ ও ১০, কিশোরগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ এবং কক্সবাজার-৪।
ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান তাঁর আসনের কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক অসংগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে পোলিং এজেন্টের নাম ও এনআইডি নম্বর ছাড়াই ফলাফল শিট তৈরি করা হয়েছে। এমনকি প্রিন্টেড কপির বদলে হাতে লেখা এবং ফটোকপি করা অস্পষ্ট শিট ব্যবহার করার মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, নির্বাচন পরবর্তী হামলায় দেশের বিভিন্ন স্থানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসেন হেলাল, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং ওলি উল্লাহ নোমান। নেতৃবৃন্দ জানান, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তারা সম্ভাব্য সকল আইনি পদক্ষেপ নেবেন।