দেশে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮ লাখ ৩ হাজার ৫৬৫ জন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবু তালিবের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘জেলে নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান নির্দেশিকা, ২০১৯’ অনুযায়ী সারাদেশে জেলেদের তালিকা যাচাই-বাছাই ও হালনাগাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮ লাখ ৩ হাজার ৫৬৫ জন।
তিনি জানান, ঝিনাইদহ জেলার সদর (আংশিক) ও কালীগঞ্জ উপজেলার প্রকৃত জেলেদের শনাক্তকরণ এবং হালনাগাদ জেলে তালিকা প্রণয়নের কাজ সরকারের চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে অব্যাহত রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিলুপ্ত ও পরিত্যক্ত হাওর-বাঁওড়সহ অন্যান্য জলাশয় সংস্কার করে মাছ চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তর ‘নির্বাচিত বাঁওড় এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রস্তুত করেছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলায় সাগান্না বাঁওড় এবং কালীগঞ্জ উপজেলার সজ্জাদ বাঁওড় ও মর্জাদ বাঁওড়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—সাগান্না বাঁওড়ে ২০ হাজার ৮৪০ দশমিক ৫১ ঘনমিটার এবং সজ্জাদ বাঁওড়ে ৪ হাজার ২৫৭ দশমিক ১৭ ঘনমিটার খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে জলাশয় পুনরুদ্ধার; দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও প্রজনন নিশ্চিত করতে তিনটি বাঁওড়ে তিনটি অভয়াশ্রম স্থাপন; প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে ৩০টি বিল নার্সারি স্থাপন; দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মানসম্মত মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং বাঁওড় সংশ্লিষ্ট সুফলভোগীদের সম্পৃক্ত করে টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পটির জনবল সভা ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি পিইসি সভার অপেক্ষায় রয়েছে।
এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়াতে ‘জলাশয় সংস্কার ও নাব্যতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলমান রয়েছে। সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের সব উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রকল্প প্রণয়ন করা হবে।