বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষে কাজ করা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কাজ করছে সরকার। বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। একইসঙ্গে তিনি জানান, সরকারি নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে মেধা, সততা ও দক্ষতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাময়িক বরখাস্তসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিভাগীয় মামলা রুজু করে শাস্তির বিধান কার্যকর করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য কর্মকর্তার ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করা হয়, যা ভবিষ্যতে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসে।
তিনি জানান, কর্মকর্তাদের নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬টি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৮০ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ৮টি প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সিভিল সার্ভিসের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সেও দুর্নীতি প্রতিরোধ, নৈতিকতা ও শিষ্টাচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংসদে প্রতিমন্ত্রী সরকারি চাকরির জনবল পরিস্থিতির তথ্যও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও শূন্য পদের সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাডারে বর্তমানে ৮ হাজার ৯৯টি পদ শূন্য রয়েছে।
বিসিএস পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনার বিষয়েও সরকারের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৪৭তম বিসিএসের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাত্র ১ বছর ৭ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আগামীতে ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছরের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি চাকরিতে বর্তমানে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর হার ২৯ শতাংশ। পাশাপাশি নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা অন্যায্য কোনো প্রভাবকে প্রশ্রয় না দিয়ে মেধা, সততা ও দক্ষতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।