সাফ অ-১৯ নারী টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ফাইনাল অনেকটা নিশ্চিতই ছিল। গ্রুপের শেষ ম্যাচে গতকাল স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৮ গোলের কম ব্যবধানে হারলেও ফাইনাল খেলত। পিটার বাটলারের শিষ্যরা নেপালকে ৪-০ গোলে হারিয়ে অপরাজিত থেকেই ফাইনালে উঠেছে। সাফ অ-১৯ নারী টুর্নামেন্টে স্বাগতিক নেপাল, বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটান অংশগ্রহণ করছে। চার দলই একে অন্যের সঙ্গে একবার করে খেলেছে। তিন ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ নয় পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে। ভারত ছয় পয়েন্টে দ্বিতীয়, নেপাল তিন ও ভুটান শূন্য পয়েন্টে যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ। টুর্নামেন্টের বাইলজ অনুযায়ী শীর্ষ দুই পয়েন্টধারী দল বাংলাদেশ ও ভারত শিরোপার জন্য লড়বে।
ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিলেন প্রতিমা মুন্দা। পরে বদলি নেমে হ্যাটট্রিকের আলো ছড়ালেন আলপি আক্তার। নেপালকে হারিয়ে, টানা তিন জয়ের সুবাস মেখে, সাফ উইমেনস অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। পোখারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে গতকাল বুধবার রাউন্ড রবিন লিগে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে প্রতিযোগিতার আয়োজক নেপালকে ৪-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। এ পর্বের সবগুলো ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সেরা হলো বাংলাদেশ। ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় ভারত। এই দুই দল আগামী শনিবার মুখোমুখি হবে শিরোপা লড়াইয়ে। রাউন্ড রবিন লিগে ভারতকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে জালের দেখা পেয়েছিলেন অধিনায়ক অপির্তা বিশ্বাস ও আলপি।
বেঞ্চের শক্তি পরখ করে নিতে নেপালের বিপক্ষে শুরুর একাদশে আলপি, শান্তি মার্দি, অর্পিতাদের রাখেননি পিটার জেমস বাটলার। তবুও তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। মামনি চাকমার কর্নারে দূরের পোস্টে প্রতিমা মুন্দা হেডে লক্ষ্যভেদ করেন। ১৯তম মিনিটে বর্ষার হেড অনায়াসে গ্লাভসে জমান ইয়ারজান বেগম। এর আগে-পরে পোস্টে তার কাটে অলস সময়। আক্রমণের ধার বাড়াতে ৩৪তম মিনিটে দুটি পরিবর্তন আনেন বাটলার। মীরা খাতুন ও পুর্ণিমা মারমাকে তুলে শান্তি মার্দি ও আলপিকে নামান কোচ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান হয় দ্বিগুণ। বক্সের একটু বাইরে ফ্রি কিক পেয়েছিল বাংলাদেশ। মামনি ডামি করার পর, আলপি দারুণ শটে লাফিয়ে ওঠা গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে জাল খুঁজে নেন। ৬১তম মিনিটে ব্যবধান বাড়তে পারত আরও। শান্তির চিপ শট গোলকিপারকে ফাঁকি দেওয়ার পর গোললাইন থেকে ফেরান এক ডিফেন্ডার।
একটু পরই ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন আলপি। সতীর্থের থ্রু পাস অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, আগুয়ান গোলকিপারের পাশ দিয়ে নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরোয়ার্ড। সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় ৮২তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরণ হয় আলপির। ডান দিক থেকে আসা বল নেপালের এক ডিফেন্ডারের পা হয়ে চলে যায় আলিজার কাছে, কিন্তু তিনি তালগোল পাকান। বল ক্লিয়ার করতে শট নিয়েছিলেন আলিজা, কিন্তু সংযোগ ঠিকঠাক না হওয়ায় বল ছুটতে থাকে পোস্টের দিকে। গোলকিপার ঝর্না ডুমরাকোটি গ্লাভস ছোঁয়ালেও আটকাতে পারেনি, সেই সুযোগে কাজে লাগান আলপি। ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যাওয়া নেপালের হতাশা আরও বাড়ে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে। আলপিকে পেছন থেকে টেনে ধরে লাল কার্ড দেখেন মায়া মাসকি।
বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় এ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ ক্যাটাগরি মিলিয়ে ছয়বার মাঠে গড়িয়েছে। বাংলাদেশ চারবার ও ভারত একবার এককভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৪ সালের আসরে যৌথভাবে সেরা হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত।
অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে এর আগে দুইবার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত। ২০২১ সালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে ম্যাচ কমিশনারের সেই আলোচিত টসকান্ডের পর দুই দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছিল সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন সাফ।