বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উচ্চশিক্ষা কিংবা গবেষণায় উৎসাহ দিতে প্রতিবছর ‘এনএসটি ফেলোশিপ’ নামে আর্থিক অনুদান প্রদান করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫-২৬ সেশনে ফেলোশিপ পেলেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা শহরে কাকের সংখ্যা হ্রাস নিয়ে এক গবেষণার কাজে ফেলোশিপ পেয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ফাতেমা জান্নাত রুবাইয়া।
গত সোমবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফেরদৌস আহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞান গ্রুপের মোট ১,২৮৬ জন ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষককে মোট ৭ কোটি ৩৫ লক্ষ ৮০ হাজার ৪ শত টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভৌতবিজ্ঞান, খাদ্য ও কৃষিবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন গ্রুপের শিক্ষার্থী ও গবেষকদেরও অনুদান দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার ফেরদৌস আহাম্মদ স্বাক্ষরিত আরেক বিজ্ঞপ্তিতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বিল দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।
জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ফাতেমা জান্নাত রুবাইয়া গত বছরের জুলাই থেকে অফিশিয়ালি তার গবেষণার কাজ শুরু করেন। এ বছরের জুলাইয়ে তা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে ফাতেমা ঢাকা শহরের বিভিন্ন পার্ক, নদীর পাড়, জলাশয়, জনবহুল স্থানসহ ৩০টির বেশি স্থানে কাকের জনসংখ্যা, আবাসস্থল, খাদ্যাভ্যাস, প্রজনন এবং মানুষের সাথে কাকের সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ২০২৪ সালেও স্নাতক একাডেমিক কোর্সের অংশ হিসেবে তিনি এ নিয়ে কাজ করেছেন।
এ বিষয়ে ফাতেমা জান্নাত রুবাইয়া ভোরের ডাক-কে বলেন, কাক শহরের উন্মুক্ত স্থানে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও খাবারের অবশিষ্টাংশ খেয়ে আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে ঢাকা শহরে পাতি কাকের সংখ্যা হ্রাসের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করা হবে। এটি তাদের খাদ্যাভ্যাস, খাদ্য সংগ্রহের ধরন বিশ্লেষণ, বাসা তৈরিতে পছন্দের স্থান ও উপাদান, প্রজনন আচরণ এবং অন্যান্য প্রজাতির সাথে পারস্পরিক সম্পর্কের ধরনগুলো উন্মোচন করবে। এই গবেষণালব্ধ ফলাফল কাক সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় সহায়তা করবে এবং একটি পরিবেশগতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ নগর পরিকল্পনা প্রণয়নে দিকনির্দেশনা দেবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ১৯ মে ২০২৫ তারিখে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপের জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের আবেদন আহ্বান করা হয়। এতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অথবা অনুমোদিত স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইনস্টিটিউটে ভৌত বিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, খাদ্য ও কৃষিবিজ্ঞানের আওতাভুক্ত বিষয়ের এমএস অথবা এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়নরত অথবা গবেষণারত ছাত্র-ছাত্রী কিংবা গবেষকরা আবেদন করেন। পরে তাদের কাগজপত্র ও গবেষণার বিষয় যাচাই করে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এরপর গত মঙ্গলবার এর চূড়ান্ত ফলাফল দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছর থেকে গবেষণা কার্যক্রমে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে এই ফেলোশিপ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়।