পর্দা নামলো বণিক বার্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ আয়োজিত সপ্তম নন-ফিকশন বইমেলার। বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে ‘নন-ফিকশন গ্রন্থ সম্মাননা-২০২৩’ ক্যাটাগরিতে দুটি বইয়ের লেখককে সম্মাননা দেয়ার মাধ্যমে শেষ হয় এ আয়োজন।
প্লেটো প্রবেশিকা বইয়ের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন আমিনুল ইসলাম ভুইয়া এবং শেয়ারিং গাঞ্জিস ওয়াটার বইয়ের জন্য সম্মাননা পান মো. নজরুল ইসলাম (আসিফ নজরুল)। মেলায় অংশ নেয়া প্রকাশকদের মনোনীত বই থেকে বিচারক প্যানেল ২০২৩ সালের এই দুটি নন-ফিকশন বই নির্বাচন করে লেখকদের সম্মানিত করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ। সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথি ও দর্শনার্থীরা বলেছেন, নন-ফিকশন বইয়ের চাহিদা কয়েক বছর ধরেই বাড়ছে। এ ধরনের বইয়ের বিপণন ও প্রচারের ক্ষেত্রে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আগামী বছরগুলোতে এর পরিধি আরো বৃদ্ধির পাশাপাশি এটি লেখক-পাঠকদের মিলনমেলা হয়ে উঠবে বলেও প্রত্যাশার কথা জানান তারা।
এসময় সম্মাননা প্রাপ্ত লেখক আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাকে অনেকেই বলেন মৌলিক বই লেখেন না কেন? অনুবাদ করে আর কতদিন কাটাবেন। অনুবাদের ওপরে যখন বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেলাম তখন আমার চতুর্থ শ্রেণির নাতনি বললো- তুমি তো এমনি পুরস্কার পেয়েছো, তুমি তো কোন বই লিখতে পারো না। দেখে দেখে লিখো। যাইহোক, এই পুস্তকের মাধ্যমে যদি বাংলা ভাষী পাঠক উপকৃত হন তাহলে আমি কৃতজ্ঞ বোধ করবো। পুস্তকের সারসংক্ষেপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি প্লেটোর ২৮ সংলাপের অনুবাদ করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে এসব সাহিত্যপাঠ যেহেতু আমাদের খুব একটা পরিচিত নয় সেহেতু একটি সহায়িকা পুস্তক থাকলে সেই পাঠ পাঠকদের জন্য অনেক বেশি সহায়ক হবে। সেই ইচ্ছা থেকে এই পুস্তকটি লেখা হয়েছে। এই পুস্তকে রয়েছে প্লেটোর ২৮টি সংলাপের ইতিহাস, সেইসব সংলাপের আড়াই হাজার বছর পেরিয়ে আমাদের দুয়ারে কিভাবে এলো তার একটি ইতিহাস, সকল সংলাপের প্রধান চরিত্র যেহেতু সক্রেটিস, তাই সক্রেটিস ও প্লেটোর মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক কি তার কিছু বর্ণণা রয়েছে এই পুস্তকে।
সম্মাননা প্রাপ্ত আরেক লেখক অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, আমি ভাবিনি এই পুরস্কার পাবো। কারণ, আমার দীর্ঘদিনের যে অভিজ্ঞতা তাতে দেখেছি প্রধানত পুরস্কার পায় সরকার দলের লোকেরা। পুরস্কারের মধ্যেও রাজনীতি থাকে, খুশী করার একটা ব্যাপার থাকে। এছাড়া, বিভিন্ন লেখক যারা শিবির মেইনটেইন করেন, বিভিন্ন আড্ডায় থাকেন, তারা পুরস্কার পান। কিন্তু, আমি খুব অবাক হলাম যে, আমিতো কোন ক্যাটাগরিতেই পড়ি না, ভিন্ন মতাবলম্বী একজন মানুষ। কিন্তু, তারপর যেটা মনে হলো বণিক বার্তা যে কত অবজেক্টিভভাবে পুরস্কার দেয় তার প্রমাণ হচ্ছে এটা।
তিনি আরও বলেন, আমি সোয়াচে থাকতে এর ওপরে দীর্ঘ সাড়ে চার বছর গবেষণা করেছি। বাংলাদেশে থাকতে পরে আরো দুই বছর গবেষণা করে এর আপডেট করেছি। আমি খুব কনফিডেন্ট -এর সাথে বলছি এই বিষয়ের ওপর এর আগে কোন বই লেখা হয়নি।
জুরি বোর্ড এবং অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, আমাদের বইমেলায় যেসব বই বেশি বিক্রি হয় সেগুলোর বেশিরভাগই গল্প-উপন্যাস বা ফিকশনধর্মী বই। আমাদের দেশে নন ফিকশন বইযের জনপ্রিয়তা তুলনামূলক কম এবং প্রকাশকরা যখন নন ফিকশন বই ছাপান তখন সংখ্যায়ও কম ছাপান। আমরা যখন এই নন ফিকশন বইয়ের উদ্যোগ নেই তখন আমাদের চিন্তা ছিল বাংলাদেশে বহু ইতিহাসের সূতিকাগার যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাই এধরনের একটি ভালো উদ্যোগেরও সূতিকাগার হওয়া উচিৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববদ্যিালয়ে আমরা যদি এ মেলাকে জনপ্রিয় করতে পারি তাহলে ধীরেধীরে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা যাবে। গত বছর থেকে আমরা একটি উদ্যোগ নিয়েছিলাম ভালো প্রকাশকদের সম্মানিত করার। আর এ বছরে আমরা যুক্ত করেছি সেরা লেখকদের সম্মানিত করা। তবে এক্ষেত্রে বণিক বার্তা সিদ্ধান্ত নেয়নি। আমাদের জুরি বোর্ডিই সেরা লেখকদের নির্বাচিত করেছেন।
তিনি আরো বলেন, এবছর আমাদের ইচ্ছে ছিল আরো আগে মেলা শুরু করা। কিন্তু নানা কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। তবে, এরপরও আমরা মেলায় বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মানুষ বই কিনতে এসেছেন এবং তারা বাংলাদেশের সেরা প্রকাশনা সংস্থার কাছ থেকে তাদের পছন্দের বই কিনেছেন। তারা এ উদ্যোগে আনন্দিত এবং অনেকেই বলেছেন দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এ মেলা আয়োজন করা যায় কিনা। আবার প্রকাশকদের পক্ষ থেকেও দাবি ছিল আরো বড় পরিসরে মেলা আয়োজন সম্ভব কিনা। ইতোমধ্যে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানিয়েছেন আরো বড় পরিসরে এ মেলা আয়োজন সম্ভব। তিনি কথা দিয়েছেন, আরো কিভাবে সবাইকে সম্পৃক্ত করে আরো বড় পরিসরে মেলাটা আয়োজন করা যায়। আমরা আগামী বছর যখন মেলা শুরু করবো তখন নিশ্চয়ই সবার সাথে আলাপ করে এমন একটা নির্ধারনের চেষ্টা করবো যখন শিক্ষার্থীরা সবাই ক্যাম্পাসে থাকবেন।
জুরি বোর্ডের সদস্য ফারুক মহিউদ্দিন বলেন, বণিক বার্তাকে ধন্যবাদ এধরনের একটি আয়োজনের জন্য। বিশেষ করে, নন ফিকশন লেখকদের পুরষ্কৃত করার যে ধারাটি তারা শুরু করেছে এটি একটি প্রশংসনীয় বিষয়। যেহেতু সাহিত্য বিষয়ক নন ফিকশন বইয়ের জন্য অন্যান্য বিভিন্ন পুরষ্কারের ব্যবস্থা রয়েছে তাই ভালো লেখক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমি সাহিত্য সম্পর্কিত নন ফিকশন বইগুলোকে কিছুটা কম গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা সেরা লেখক হিসেবে যাদের বাছাই করেছি তারা সবাই অত্যন্ত যোগ্য এবং তাদের সম্মানিত করতে পেরে আমরাও অত্যন্ত গর্বিত।
জুরি বোর্ডের আরেক সদস্য ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, বই বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমি ব্যক্তিগতভাবে যেটা গুরুত্ব দিয়েছি, সেটা হল বইয়ে যে জ্ঞান প্রদান করা হচ্ছে তার গুরুত্ব। যেমন আমরা ফিকশনধর্মী বই যখন পড়ি তখন শুধু জ্ঞানার্জনের আশায় পড়ি না। ভালো ফিকশনধর্মী বই থেকেও অনেক জ্ঞান অর্জন করা যায়।তবে সেটা হল বিনোদনের অতিরিক্ত পাওনা। কিন্তু, যে বইটা নলেজের জন্যই লেখা সে বইটা যে নলেজ প্রদান করছে সেটি অর্থবহ কিনা এবং মৌলিক কিনা এটি গুরুত্বপূর্ণ। আজকে আমরা যারা জুরিবোর্ডে ছিলাম তারা মূলত বইগুলোর মধ্যে একটা তুলনা করেছি। আর এ তুলনায় গুরুত্ব পেয়েছে মৌলিকত্ব এবং লেখার ধরন। এটুকু অবশ্যই বলতে পারি, যে বইগুলো আমরা বাছাই করেছি সেগুলো অবশ্যই পাঠকদের জ্ঞানের পরিসর বৃদ্ধি করতে সক্ষম। এছাড়া, আরো কয়েকটি বই ছিল যেগুলো পড়লে পাঠকের চিন্তার খোরাক জোগাবে। বণিক বার্তা এবং ঢাকা বিশ্ববদ্যিালয়কে ধন্যবাদ এমন একটি আয়োজন করার জন্য।
জুরি বোর্ডের সভাপতি আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, একটি জাতির উন্নতি করতে হলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চায়ও সৃষ্টিশীল হতে হয়। সাহিত্যও একটা জাতির জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লক্ষ্য করলে দেখা যায় কলকাতা কেন্দ্রিক সংস্কৃতি ও সাহিত্য গোটা এশিয়াতে অনেক অগ্রসর ও উন্নত ছিল। এর একটা কারণ ইউরোপীয়রা গত কয়েকশ বছর ধরেই এশিয়ার জাতিগুলোর তুলনায় অনেক উন্নত অবস্থায় আছে। মাঝে ইংরেজ শাসনের ফলে বাঙালীরা ইউরোপীয় চিন্তা ভাবনা, দর্শন, সাহিত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে পরিচিত হয় এবং এর মধ্যে কলকাতা তুলনামূলকভাবে আগে এগিয়ে এসেছে। বিশেষত কলকাতার হিন্দু সমাজই এধরনের জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চায় এগিয়ে এসেছে এবং মুসলিম সমাজ এধরনের চর্চা শুরু করেছে প্রায় ১০০ বছর পর। ১৯২০ সালের দিকে আসলে আমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম লেখক পাই। এ কারণে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে একটি ব্যবধান ছিল। তবে এটি রাজনৈতিক রূপ লাভ করে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়। আর এটি ছিল মূলত ইংরেজেদের ডিভাইডেশন রুলের ফলাফল এবং এই ডিভাইডেশন রুলের মাধ্যমেই তারা বাংলাকে, পাঞ্জাবকে তথা ভারতকে বিভক্ত করেছেন। বাংলাকে বিভাজন করা সহজ ছিল না। কিন্তু যখন পরপর তিনজন মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হল তখন উচ্চবর্গীয় হিন্দুরা চিন্তা করল হিন্দু-মুসলিমরা একত্রে থাকলে কখনও কোনো হিন্দু প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। পরবর্তীতে মোহাম্মদ-আলী জিন্নাহ, জওহরলাল নেহরু এবং মহাত্মা গান্ধীর আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়েই ইংরেজরা ক্ষমতা হস্তান্তর করে যায়। এজন্যই একটা জাতির উন্নয়নে সাহিত্য চর্চা অত্যন্ত দরকারি। এছাড়া, অর্থনৈতিক উন্নয়ন অপরিহার্য, কিন্তু শুধু অর্থনৈতিক উন্নতিই যথেষ্ট নয়। তার সাথে সংস্কৃতি, ধর্মীয়, সামাজিক এবং রাজনৈতিক উন্নতিও প্রয়োজন। আর বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক যে চর্চা সেটি খুব ভালো অবস্থানে আছে বলা যাবে না। আর এ রাজনৈতিক চর্চার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল মঈন বলেন, স্বতঃস্ফূর্ত আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য বণিক বার্তা টিমকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। বিগত ৭ বছর ধরে এই বইমেলার আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে অনেক লেখক,পাঠক সমাজের তৈরি হয়েছে। এরকম আয়োজনের মাধ্যমে বনিকবার্তা অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে মনে করি। বই মেলায় অংশগ্রহণকারী সকল লেখক ও প্রকাশক ও পাঠকের সাফল্য কামনা করি।
সমাপনী অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, যে দুইজন লেখক আজকে সম্মাননা পেয়েছেন তাদেরকে অভিনন্দন জানাই। যে লেখকের বইয়ের শিরোনাম দেখে বুঝা যায় ভিতরে কি লিখেছে সে কোন লেখকই না। আর যে লেখকের শিরোনাম দেখে ভিতরে কি লেখা আছে তার বুঝার উপায় নেই, ওই লেখকই আসল লেখক। প্রকৃত তথ্যভিত্তিক বই আমাদের জন্য প্রয়োজন। এইরকম নন-ফিকশন বইমেলার আয়োজন আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে তথ্যভিত্তিক বই পড়ার আগ্রহ তৈরি হবে। বণিক বার্তার এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনকে সাধুবাদ জানাই। আগামীতে এই আয়োজন সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, যারা লেখনীর মাধ্যমে, প্রতিভার মধ্যমে এবং স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন রাষ্ট্র, সমাজকে সমৃদ্ধ করার জন্য, তারা হলেন আজকের সুন্দর মানুষ। যারা পুরস্কার পেয়েছেন তাদেরকে অভিনন্দন জানাই। ৭২ এর সংবিধান নিয়ে আপনার যে অনুভূতি, বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতার যে কথা ছিল সেটা আমরা কিন্তু অ্যানালাইসিস কখনো করি না। যেহেতু আপনি অনুধাবন করেছেন সেজন্য আলাদা কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। এ বিষয়গুলো আমরা দেখার চেষ্টা করব। বণিকবার্তা এবং ঢাবির ব্যবসায় প্রশাসনের আয়োজনকে সাধুবাদ জানাই। সপ্তম বারের মত আয়োজন। এটা কিন্তু সহজ কথা নয়। একুশে বইমেলা চট বিছিয়ে ২০-৩০টি বই নিয়ে শুরু হয়েছিল। আজ সেই বইমেলা সাড়ে ৭ লাখ বর্গফুট জায়গায় বইমেলা হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বইমেলা একুশে বইমেলা। আজকের বইমেলায় একুশে বইমেলার প্রভাব আছে। গুণগত মানের দিক থেকে যদি বলি, এই মেলা আমাকে আকৃষ্ট করেছে, সমৃদ্ধ করেছে। যারা এখানে কথা বলেছে, উপস্থিত হয়েছে, পুরস্কার পেয়েছে এবং মেলার আয়োজন দেখে মনে হয়েছে এখানে প্রত্যেকটি বইয়ের মান ভালো।
এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর শুরু হওয়ার পর থেকেই সাধারণ পাঠক ও শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। অর্থনীতি, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, ইতিহাস, গবেষণা, আত্মজীবনী—এমন নানা বইয়ের সংগ্রহ নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছে দেশের প্রথম সারির মোট ৪১টি প্রকাশনা ও গবেষণা সংস্থা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল। আরো ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও প্রাবন্ধিক আবুল কাসেম ফজলুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল মঈনসহ আরো অনেকে।