সুদানের গৃহযুদ্ধে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) পক্ষে লড়াই করতে বিদেশি ভাড়াটে সেনা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিরুদ্ধে। জাতিসংঘের তদন্তকারীদের একটি গোপন প্রতিবেদনে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।
প্রতিবেদনটি অনুযায়ী, আমিরাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা গ্লোবাল সিকিউরিটি সার্ভিসেস গ্রুপ (জিএসএসজি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান কলম্বিয়ার ভাড়াটে যোদ্ধাদের সুদানে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। লিবিয়া, সোমালিয়া ও চাদ হয়ে এসব যোদ্ধাকে সুদানে নেওয়া হয়। ওই দেশগুলোতে আমিরাতের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের প্রভাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, সোমালিয়ার আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুন্টল্যান্ডের বসাসো শহরে অবস্থিত পুন্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশ ফোর্সের (পিএমপিএফ) ঘাঁটি এসব কলম্বীয় যোদ্ধার যাতায়াত ও প্রশিক্ষণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আমিরাতের সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ওই বাহিনীকে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও তদারকি করে আসছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আমিরাতের আবুধাবি, ঘায়াথি ও আল-ওয়াথবাহ এবং সোমালিয়ার বসাসো ঘাঁটিতে ভাড়াটে সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের সুদানের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।
সুদানের দারফুর অঞ্চলে আরএসএফের সামরিক অভিযানে এসব বিদেশি যোদ্ধা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি জাতিসংঘের তদন্তকারীদের। বিশেষ করে উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের অবরোধ ও দখলের অভিযানে তাঁদের অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে। ড্রোন পরিচালনা, গোলন্দাজ বাহিনীকে সহায়তা এবং সরাসরি পদাতিক যুদ্ধে অংশ নেওয়ার দায়িত্বও পালন করেছেন তাঁরা।
৫০০ দিনের বেশি অবরোধের পর গত বছরের অক্টোবরে এল-ফাশের নিয়ন্ত্রণ নেয় আরএসএফ। শহরটি দখলের অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে বাহিনীটির বিরুদ্ধে।
তবে সুদানের সংঘাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সামরিক সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভাড়াটে সেনা পাঠানোর অভিযোগকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।
এদিকে, আমিরাতের শীর্ষ কূটনীতিক লানা নুসেইবেহ জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। সুদানের যুদ্ধে আরএসএফকে আমিরাতের সমর্থনের অভিযোগ তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত সুদানের রাষ্ট্রদূত বাবিকার আল-সিদ্দিক আল-আমিন এ বিষয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সুদানের মানুষের রক্ত যাদের হাতে, তাদের আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়া উচিত নয়। নুসেইবেহ জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচিত হলে সংস্থাটির গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বড় সংকটে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, নুসেইবেহ বলেছেন, আরএসএফের সংঘটিত নৃশংসতার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে জাতিসংঘের তদন্ত কার্যক্রমের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হলেও তা এখনো গোপন রাখা হয়েছে। এর আগে প্রকাশিত না হওয়া একই ধরনের আরেকটি প্রতিবেদনে সুদানের যুদ্ধে আরএসএফকে আমিরাতের পক্ষ থেকে ভাড়াটে সেনা সরবরাহের অভিযোগ উঠেছিল। তবে আমিরাতের ঘনিষ্ঠ মিত্র বাহরাইন কয়েক মাস ধরে ওই প্রতিবেদন প্রকাশে বাধা দিয়ে আসছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।