বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। তাঁর মুক্তির খবর পেয়ে শুভেচ্ছা জানাতে কারাফটকে জড়ো হন জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও।
কারাগার থেকে বের হওয়ার পর আখতারুজ্জামানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান নেতাকর্মীরা। তাঁর মুক্তিকে কেন্দ্র করে সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তবে এ সময় তাঁর বা উপস্থিত নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর সকালে মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। লাগেজ সংগ্রহের সময় ট্রলির সংকট এবং জমজমের পানি পেতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা এবং বিমানবন্দরের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব।
পরদিন ২ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর সেনানিবাস এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরে দায়রা আদালতেও জামিন না পেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। শেষ পর্যন্ত জামিন পাওয়ার পর মঙ্গলবার কারামুক্ত হলেন এই জামায়াত নেতা।