ফরিদপুরের সদরপুরে সাড়ে চার মাস আগে নিখোঁজ হওয়া শিশু সামিউল মল্লিকের (৯) মরদেহ উদ্ধারে রাতভর অভিযান চালিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক চার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বাড়ির বারান্দার কক্ষের পাকা মেঝে ভেঙে প্রায় ছয় ফুট গভীর গর্ত খুঁড়েও শিশুটির মরদেহের সন্ধান মেলেনি।
রোববার (১ নভেম্বর) রাত ১০টা থেকে সোমবার রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দী গ্রামের লাভলী বেগমের (৩৫) বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় বাড়ির বারান্দার একটি তালাবদ্ধ কক্ষের পাকা মেঝে ভেঙে মাটি খুঁড়ে তল্লাশি চালানো হয়। তবে শিশুটির কোনো সন্ধান না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত অভিযান স্থগিত করা হয়।
পিবিআই ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দী গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয় শিশু সামিউল। সে ওই গ্রামের প্রবাসী মিরাজুল মল্লিকের ছেলে। এ ঘটনায় পরদিন শিশুটির চাচা সদরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শিশুটির সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল পরিবারের সদস্যদের।
পরে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে ফরিদপুর জেলা পিবিআই। তদন্তের একপর্যায়ে রোববার (১ নভেম্বর) ফরিদপুর সদর ও সদরপুরের কৃষ্ণপুর এলাকা থেকে চারজনকে আটক করে সংস্থাটি। আটক ব্যক্তিরা হলেন নয়াকান্দী গ্রামের ধনা মাতুব্বরের ছেলে আলামিন মাতুব্বর (৩৬), নালু ফরাজীর ছেলে মোস্তফা ফরাজী (৫০), নগরকান্দা উপজেলার গোয়ালপোতা গ্রামের মজনু মাতুব্বরের ছেলে ফরিদ মাতুব্বর (৩৫) এবং একই গ্রামের হানিফের ছেলে সুজন শেখ (৩৭)।
পিবিআই সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাভলী বেগমের বাড়ির বারান্দার ওই কক্ষে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে ফরিদপুর জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিন, সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আল মামুন শাহ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অংশ নেন।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, শিশু সামিউলের নিখোঁজের ঘটনায় মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা ও তদন্ত অব্যাহত থাকবে।