আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে স্বল্প সুদে ঋণ, কৃষক কার্ডে থাকছে ১০ সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

বৃষ্টি, ঝড় কিংবা তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তন—প্রতিকূল আবহাওয়ার আগাম খবর এবার সরাসরি কৃষকের মোবাইল ফোনে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কৃষক

2026-11-02T11:04:23+00:00
2026-11-02T11:04:23+00:00
  সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬,
১৮ কার্তিক ১৪৩৩
 
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
জাতীয়
আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে স্বল্প সুদে ঋণ, কৃষক কার্ডে থাকছে ১০ সুবিধা
নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০৪ এএম 
আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে স্বল্প সুদে ঋণ, কৃষক কার্ডে থাকছে ১০ সুবিধা
বৃষ্টি, ঝড় কিংবা তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তন—প্রতিকূল আবহাওয়ার আগাম খবর এবার সরাসরি কৃষকের মোবাইল ফোনে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কৃষক কার্ডের আওতায় নিবন্ধিত কৃষকদের কাছে স্বয়ংক্রিয় এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস। ফলে ফসলের ক্ষতি এড়াতে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবেন তারা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে প্রতি ছয় ঘণ্টা পরপর কৃষকদের কাছে আবহাওয়ার তথ্য পাঠানো হবে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা থাকবে।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় শুধু আবহাওয়ার পূর্বাভাস নয়, কৃষি উপকরণ সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, সেচ সুবিধা ও কৃষি বীমাসহ মোট ১০ ধরনের সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী চার বছরে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন অনেকটাই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা ঝড়ের কারণে প্রায়ই ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। সময়মতো আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেলে কৃষকরা চাষাবাদ, সেচ, সার প্রয়োগ, বালাইনাশক ব্যবহার ও ফসল সংগ্রহের বিষয়ে আগাম সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

উদাহরণ হিসেবে, ধান কাটার মৌসুমে বৃষ্টির পূর্বাভাস পেলে দ্রুত ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিতে পারবেন কৃষকরা। আবার বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে সেচের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে নির্ধারণ করে পানি ও উৎপাদন খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। ঝড়ের সতর্কবার্তা পেলে ফসল ও কৃষি উপকরণ রক্ষায়ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

কৃষকদের কাছে এই পূর্বাভাস পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)। প্রতিষ্ঠানটি স্বয়ংক্রিয় এসএমএস ব্যবস্থার মাধ্যমে নিবন্ধিত কৃষকদের আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করবে।

২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে যুক্ত করার পরিকল্পনা

প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে তাদের জন্য সরকারি সহায়তা ও সেবা সহজলভ্য করাই কৃষক কার্ড কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে কৃষকদের ব্যক্তিগত ও কৃষিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহের কাজ এগিয়েছে। এসব ব্লকে ইতোমধ্যে ২২ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ডের আওতায় ৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।

গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষকের জন্য কৃষি উপকরণ সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এর আগে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়। এ পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

কৃষির আধুনিকায়নে তৈরি হচ্ছে তথ্যভান্ডার

প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান খান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের প্রয়োজন নির্ধারণের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তা দেওয়ার কাজ চলছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি হলে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বলেন, কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ এবং তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সহজ ও কার্যকর করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এ জন্য তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা ও কার্ড বিতরণের কাজ সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানোর ব্যবস্থা সমন্বিত কৃষিসেবায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর মাধ্যমে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বুঝে চাষাবাদের পরিকল্পনা করা এবং সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি উৎপাদনে আবহাওয়ার প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে পূর্বাভাস পেলে কৃষকরা ফসলের পরিচর্যা, সেচ ব্যবস্থাপনা, সার প্রয়োগ ও ফসল সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

কৃষি সচিব জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লককে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে পার্টনার (PARTNER) প্রকল্প।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: