টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় একের পর এক অদলবদল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার দাপুটে জয় যেমন শীর্ষস্থান কেড়ে নিয়েছে প্যাট কামিন্সদের, তেমনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বাংলাদেশের হারও পিছিয়ে দিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। দুই দলের হারের বিপরীতে সিরিজ জিতে পয়েন্ট তালিকায় দুইয়ে উঠে এসেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা। আর কোনো ম্যাচ না খেলেই শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছে নিউজিল্যান্ড।
আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রে গত কয়েক দিনের ফলাফল পয়েন্ট তালিকার সমীকরণে বড় পরিবর্তন এনেছে। কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে মিরপুরে প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। ফলে পয়েন্ট তালিকার চারে থাকা বাংলাদেশ নেমে গেছে পাঁচে।
ছয় টেস্টে চার জয় নিয়ে ৭২.২২ শতাংশ পয়েন্টসহ তালিকার শীর্ষে নিউজিল্যান্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি সিরিজ খেলেছে তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২-০ ব্যবধানে হারানোর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।
নিউজিল্যান্ডের ঠিক পেছনে দক্ষিণ আফ্রিকা। সাত ম্যাচে পাঁচ জয় নিয়ে তাদের পয়েন্ট শতাংশ ৭১.৪৩। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে হেরে পিছিয়ে পড়লেও পরের দুই ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় টেম্বা বাভুমার দল। গেবেরহা ও কেপটাউনে টানা দুই জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় প্রোটিয়ারা।
ভারতের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ ড্র করার পর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজ হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ১৩ ম্যাচে ৯ জয় নিয়ে তাদের পয়েন্ট শতাংশ এখন ৬৯.২৩। এই চক্রে এটাই তাদের প্রথম সিরিজ হার।
চক্রের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ভালো অবস্থানে ছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর ঘরের মাঠে অ্যাশেজ ধরে রাখে দলটি। বাংলাদেশের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হারের পরও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল তারা। এমনকি ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১৪ রানে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানও মজবুত করেছিল কামিন্সের দল।
কিন্তু সিরিজের শেষ দুই টেস্টে টানা হারে সেই অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। সামনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে চার টেস্ট এবং ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের কঠিন সিরিজ খেলতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে হারের আগে পয়েন্ট তালিকার চারে ছিল বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটে হেরে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারিয়েছে দলটি। সাত ম্যাচে তিন জয় নিয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট শতাংশ এখন ৪৭.৬২।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় এবং ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়—এই দুই সাফল্য বাংলাদেশের অবস্থান ভালো করতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার সেই অগ্রযাত্রায় ধাক্কা দিয়েছে।
ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। এরপর ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুটি টেস্ট খেলবে দলটি। ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক ভালো ফলের বিকল্প নেই।
১১ ম্যাচে পাঁচ জয় নিয়ে ৫১.৫২ শতাংশ পয়েন্টসহ তালিকার চারে ভারত। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ড্র করার পর ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরেছে তারা।
সামনে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুটি টেস্ট খেলবে ভারত। এরপর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ। ফাইনালের দৌড়ে এগিয়ে যেতে এই দুই সিরিজে ভালো ফল করা জরুরি।
১৬ ম্যাচে সাত জয় নিয়ে ৩৮.৫৪ শতাংশ পয়েন্টসহ তালিকার ছয়ে ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ হারের পাশাপাশি মন্থর ওভার রেটের কারণে পয়েন্ট হারানোও তাদের পিছিয়ে দিয়েছে।
এই চক্রে ইংল্যান্ডের বাকি রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনটি এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট। হাতে থাকা ম্যাচগুলোতে ভালো ফল করতে না পারলে ফাইনালের লড়াইয়ে তাদের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
ছয় ম্যাচে এক জয় নিয়ে ৩৩.৩৩ শতাংশ পয়েন্টসহ সাত নম্বরে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জয় দিয়ে চক্র শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি দলটি। সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ রয়েছে তাদের।
১৩ ম্যাচে তিন জয় নিয়ে ২৬.৯২ শতাংশ পয়েন্টসহ আট নম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জিতে নিজেদের অবস্থান কিছুটা শক্ত করেছে ক্যারিবীয়রা। এই চক্রে তাদের বাকি রয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে আর একটি টেস্ট।
নয় নম্বরে পাকিস্তান। নয় ম্যাচে মাত্র দুই জয় নিয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে দলটি। ইংল্যান্ড সফরে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হারের পাশাপাশি মন্থর ওভার রেটের কারণে পয়েন্টও হারিয়েছে পাকিস্তান। সামনে শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি করে টেস্ট খেলার সুযোগ রয়েছে তাদের।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্র এখনো বাকি। সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে বদলে যেতে পারে পয়েন্ট তালিকার চেহারা। তবে সাম্প্রতিক ফলাফলে স্পষ্ট—শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়ে থাকলেও অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও বাংলাদেশের সামনে এখনো সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বাকি ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়িয়ে ধারাবাহিক জয় তুলে নেওয়া।